আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের অন্তর্গত দুর্গাপুরের ওয়ারিয়া ফাঁড়ির দৃষ্টি স্কুলের কচিকাঁচাদের মিড-ডে মিল দেওয়ার তৎপরতা শুরু করল দুর্গাপুর পুরসভার শিক্ষা দফতর। দুর্গাপুর পুরসভার শিক্ষা দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র পারিষদ অঙ্কিতা চৌধুরী একথা জানিয়ে বর্ধমান ডটকমকে বলেন, ‘দুর্গাপুরের ওয়ারিয়া ফাঁড়ির পুলিশ কর্মীরা নিজেদের খরচায় সাত বছর ধরে স্থানীয় খেটে খাওয়া মানুষের ছেলেমেয়েদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পড়াশোনা শেখানোর জন্য একটি স্কুল চালাচ্ছেন। ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার জন্য প্রয়োজনীয় বই, খাতা, ব্যাগ পেনসিল টিফিন খাওয়ার খরচ জোগাচ্ছেন। সমাজের কাছে একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন দুর্গাপুরের ওয়ারিয়া ফাঁড়ির পুলিশ কর্মীরা।’ অঙ্কিতা চৌধুরী আরও বলেন, ‘দুর্গাপুর পুরসভাও ওয়ারিয়া ফাঁড়ির পুলিশ কর্মীদের মহানুভবতা দেখে পুলিশ কর্মীদের এই মহান কাজে পাশে দাঁড়িয়ে কচিকাঁচাদের মিড-ডে মিল দেওয়ার জন্য তৎপরতা শুরু হয়েছে। আমি নিজে দৃষ্টি স্কুল পরিদর্শন করে জেলা প্রশাসনের কাছে এই স্কুলে মিড-ডে মিল দেওয়ার আবেদন করেছি। আশা করছি জেলা প্রশাসন দৃষ্টি স্কুলের কচিকাঁচাদের কথা বিবেচনা করে মিড-ডে মিল দেওয়ার ব্যবস্থা করবে।’

জানা গেছে, দুর্গাপুর থানার অধীন ওয়ারিয়া ফাঁড়ির পুলিশ কর্মীদের পরিচালনায় দৃষ্টি স্কুলটি সাত বছর আগে চালু হয়। তৎকালীন পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা ওয়ারিয়া ফাঁড়ি এলাকার দুস্থ মানুষের ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার বিকাশে দৃষ্টি স্কুলটির উদ্ধোধন করেন। সেই শুরু হয় দৃষ্টির পথ চলা। ওয়ারিয়া ফাঁড়ির পুলিশ কর্মীরা নিজেদের খরচায় এলাকার দুস্থ মানুষজনের ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা এবং পড়াশোনার সামগ্রী দিয়ে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের সামাজিক দায়বদ্ধতার মুখটি উজ্জ্বল করে চলেছেন।

শুরুতে বাঁশ ও টালির দুই কামরা ঘরে এই স্কুল চালু হয়। তারপর ওয়ারিয়া ফাঁড়ির পুলিশ কর্মীদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় স্কুলের তিন কামরার পাকা শ্রেণিকক্ষ তৈরি হয়। দৃষ্টি স্কুলে বর্তমানে ১১৫ জন পড়ুয়া রয়েছে। পুলিশ কর্মীরা চোর-ডাকাত-গুন্ডা দমন করার সঙ্গে সঙ্গে দৃষ্টি স্কুলে রীতিমত পড়ান ছেলেমেয়েদের। ওয়ারিয়া ফাঁড়ির ইনচার্জ রাজ শেখর মুখার্জী বলেন, ‘এখানে ভালোবাসার মাধ্যমে যেহেতু পঠন-পাঠন দেওয়া হয়, তাই শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা সব মরসুমেই এই স্কুলে পড়ুয়াদের উপস্থিতির হার উল্লেখযোগ্য।’ ফাঁড়ির সাব-ইন্সপেক্টর মফিজুল হক জানান, হিন্দি ও বাংলা দু’ভাষাতেই পুলিশ কর্মীদের পাশাপাশি উন্নততর পঠনপাঠন দিতে তিন জন শিক্ষক-শিক্ষিকা কচিকাঁচাদের পড়ান এই দৃষ্টি স্কুলে।

ওয়ারিয়া ফাঁড়ির ইনচার্জ রাজ শেখর মুখার্জীর দাবি, যে অমূলক নয় সেকথা বোঝা গেল স্থানীয় মেনগেট, ওয়ারিয়া, কাদারোড ও গ্যামন কলোনিতে গিয়ে দৃষ্টি স্কুল সম্পর্কে খোঁজ খবর নিয়ে। এলাকার রিক্সা চালক, বাড়ির পারিচারিকা থেকে যৌনপল্লীর বাসিন্দাদের অনেকেই ওয়ারিয়া ফাঁড়ির পুলিশ কর্মীদের উপর ভরসা রেখে এই স্কুলে কচিকাঁচাদের পাঠিয়ে নিশ্চিত হয়েছেন।

ফাইল চিত্র: পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা উদ্ধোধন করেন দৃষ্টি স্কুল


Like Us On Facebook