ঋণের কয়েকটা কিস্তি ঠিকঠাক জমা দিলেও মাত্র এক মাসের কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে দেরি হওয়ায় ঋণ প্রদানকারী সংস্থার কালেকশন এজেন্টের কর্মীরা এক বাইকের ঋণগ্রহীতাকে অপমান করে বাইকটি কেড়ে নিয়ে চলে যায় বলে অভিযোগ। আর সেই অপমানে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করল এক যুবক বলে অভিযোগ ওই যুবকের পরিবারের। বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ওই যুবক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে সেই যুবক। মঙ্গলবার ভোর রাতে ঘটনাটি ঘটেছে দুর্গাপুরের স্টিল টাউনশিপের নাগার্জুন বস্তিতে। অবশ্য বাইকের ঋণ আদায়কারী সংস্থার কর্মীরা কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে না পারায় যুবককে অপমান করে বাইক কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

জানা গেছে, স্টিল টাউনশিপের নাগার্জুন বস্তির বাসিন্দা পেশায় রংমিস্ত্রি রাম যাদব মাস ছয়েক আগে একটি নতুন বাইক কেনেন ফিনান্স সংস্থার মাধ্যমে। ছয় কিস্তির টাকা পরিশোধ করলেও সংসারের অভাব অনটনের কারণে সপ্তম কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে বিলম্ব হয়। আর এরপরেই সংশ্লিষ্ট ফিনান্স সংস্থার ঋণ আদায়কারী এজেন্ট রাম যাদবকে অপমান করে রাম যাদবের সাধের বাইকটিকে নিয়ে চলে যায় বলে অভিযোগ করেন রাম যাদবের স্ত্রী চায়না যাদব। এরপরই মঙ্গলবার ভোর রাতে রাম যাদব অপমান সহ্য করতে না পেরে তাঁর একমাত্র ছোট্ট সন্তান ও স্ত্রী চায়না যাদবকে বাড়ির মধ্যে তালা দিয়ে একটি গাছে গলায় দড়ি দেয়। চায়নাদেবীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে রাম যাদবকে গলার দড়ি খুলে নামালেও রাম যাদব এখনও সংজ্ঞাহীন অবস্থায় দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। এই ঘটনার পর শিল্পাঞ্চল জুড়ে অভিযুক্ত ঋণ প্রদানকারী সংস্থার কালেকশন এজেন্টদের অমানবিক আচরণের বিরুদ্ধে নিন্দার ঝড় ওঠে।

যদিও অভিযুক্ত সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক স্বদেশ ঘোষাল বলেন,’ ঋণগ্রহীতার পরিবারের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ঋণের কিস্তির টাকা আদায় করার সময় রাম যাদবকে কোন মানসিক চাপ দেওয়া বা অপমান করা হয় নি। রামবাবু যেহেতু কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে পারেন নি তাই তিনি স্বেচ্ছায় বাইক ও বাইকের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আমাদের লোকজনদের ফেরৎ দিয়ে দেন। এবং বলেন তিন দিন পর বকেয়া কিস্তির টাকা পরিশোধ দিয়ে বাইকটি ফের বাড়িতে নিয়ে আসবেন। তারপর বুধবার সকালে শুনছি রাম যাদব গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন।’ স্বদেশ ঘোষাল পাল্টা অভিযোগে বলেন, ‘ঋণে বাইক নেওয়ার পর থেকেই রাম যাদব সময় মত কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে পারছিলেন না।’

বর্ধমান ডট কম-এর খবর নিয়মিত আপনার ফেসবুকে দেখতে চান?

Like Us On Facebook