বাড়ি বিক্রি করতে রাজি না হওয়ায় বৃদ্ধা মাকে বাড়ি থেকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে জিনিস পত্র সমেত বের করে দিয়ে বাড়িতে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল গুণধর ছেলের বিরুদ্ধে। এই নির্মম অত্যাচারে বৃদ্ধা অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে অভিযোগ। গুণধর ছেলের বিরুদ্ধে কড়া শাস্তির দাবিতে সোচ্চার হল সুশীল সমাজ।ঘটনাটি ঘটেছে দুর্গাপুরের ডিপিএল আবাসনের হেড কোয়ার্টার এলাকায়। সোমবার প্রাণভয়ে বৃদ্ধা মা স্বশরীরে এসে কোকওভেন থানায় গুণধর ছেলের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ অভিযোগ পেয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে তৎপরতা শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্গাপুরের ডিপিএল আবাসনের হেড কোয়ার্টার এলাকার বাসিন্দা পদ্মা চট্টোপাধ্যায়। স্বামী মারা যাওয়ার পর ছোট ছেলেকে নিয়ে থাকেন। স্বামী ডিপিএল কারখানার কর্মী ছিলেন। বড় ছেলে বাসুদেব চট্টোপাধ্যায় স্ত্রীকে নিয়ে থাকেন ডিপিএল কারখানার পাশে লেবার হাট এলাকায়। পদ্মাদেবী বলেন, ‘বড় ছেলে বহুদিন ধরে আমার শেষ আশ্রয়স্থল বসত বাড়িটি বিক্রি করে টাকা দেওয়ার জন্য আমার উপর মানসিকচাপ সৃষ্টি করছে। ইদানিং কেবলমাত্র চাপ সৃষ্টিই নয়, বড় ছেলে বাসুদেব চট্টোপাধ্যায় বাড়ি বিক্রি করে টাকা দেওয়ার জন্য আমাকে মারধর করছে। পরিস্থিতি এখন এমন জায়গায় পৌঁছেছে আমাকে মারধর করে আমার সমস্ত জিনিস পত্র বিছানা সহ সব বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে বাড়িতে তালা ঝুলিয়ে দেয়। আমার শেষ আশ্রয়স্থল আমি বিক্রি করতে না চাওয়াতেই অত্যাচার শুরু হয়। আমাকে মারধর করার পর আমি অসুস্থ হয়ে পড়লে আমাকে ছোট ছেলে হাসপাতালে ভর্তি করে। আমি খুব অসহায় হয়ে পড়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছি। আমি হয়ত বড় ছেলেকে বাড়ির ভাগ দিতাম, কিন্তু যেভাবে আমাকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করে বাড়ি বিক্রি করতে চাপ দিচ্ছে বড় ছেলে তাতে কোনভাবেই রাজি নই বাড়ি বিক্রি করতে।’

পুলিশ পদ্মাদেবীর অভিযোগ পেয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন পদ্মাদেবীকে। পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমে পদ্মাদেবীর বাড়িতে এলে পড়শিরাও পদ্মাদেবীর উপর বড় ছেলের অত্যাচার নিয়ে সোচ্চার হন। বড় ছেলের কড়া শাস্তির দাবি জানান পদ্মাদেবীর প্রতিবেশীরা‌। হাইকোর্টের নির্দেশকে অমান্য করে বৃদ্ধা পদ্মাদেবীর উপর গুণধর ছেলের বাড়ি বিক্রির চাপ ও নির্মম অত্যাচারের খবর চাউর হতেই শিল্পাঞ্চল জুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে। সুশীল সমাজ বৃদ্ধাকে অত্যাচারের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে ছেলের বিরুদ্ধে কড়া শাস্তির দাবি জানান।

Like Us On Facebook