ঝাঁঝরা এরিয়ায় ভিজিল্যান্স ও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অভিযান হল মঙ্গলবার। জানা গেছে, খনি এলাকায় বৈধ খনির পাশাপাশি অবৈধ কয়লাখনি ও কয়লা পাচারের রমরমা দীর্ঘদিনের। এবার তাতে লাগাম টানতে তৎপর হয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। কে বা কারা এই অবৈধ কয়লা পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত, কিভাবে চলে পাচারের কাজ তা জেনে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে তৎপর হয়েছে সিবিআই। সিবিআই সূত্রের খবর, ইসিএলের ৫ আধিকারিকের বিরুদ্ধে এই তদন্তকারী সংস্থার দুর্নীতি দমন শাখায়(অ্যান্টি-কোরাপশন ব্যুরো) অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তারপরে অভিযানে নেমেছে তারা। আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কয়লা পাচারে মাফিয়াদের মদত দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বলে সূত্রের খবর।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার সিবিআই-এর জিজ্ঞাসাবাদের সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় কুনুস্তরিয়া এরিয়ার সিকিউরিটি ইনচার্জ ধনঞ্জয় রায়। সিবিআই-এর তদন্তে ইসিএলের একাধিক আধিকারিকের নাম জড়ানোয় নড়েচড়ে বসেছে ইসিএলের ভিজিল্যান্সও। তাঁরাও সমন্তরাল তদন্ত চালাচ্ছে বলে সূত্রের খবর। আজ মঙ্গলবার ভিজিল্যান্সের একটি দল পাণ্ডবেশ্বর এরিয়া কার্যালয়ে তদন্তে আসে। সে সময় কার্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন এরিয়ার জেনারেল ম্যানেজার অমিত কুমার ধর। তদন্তের সময় অমিতবাবু কার্যালয়ে উপস্থিত না থাকায় তাঁর চেম্বারটি অফিসাররা সিল করে দেন বলে খবর। পরে ভিজিল্যান্স টিম পাণ্ডবেশ্বর থানার অধীনস্থ জামুরিয়া ব্লকের শ্যামলা এলাকায় যায়। শ্যামলা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অসংখ্য অবৈধ কয়লা খাদান রয়েছে বলে অভিযোগ। দিন কয়েক আগে এরকমই প্রায় ৫০ টিরও বেশি অবৈধ খাদান মাটি দিয়ে ভরাট করা হয়েছে সংস্থার উদ্যোগে। আজ ভিজিল্যান্স আধিকারিকরা সেই সব খাদানগুলি পরিদর্শন করেন। পাশাপাশি এলাকায় আরও কোন অবৈধ খাদান হয়েছে কিনা সে ব্যাপারে খোঁজখবর নেন তাঁরা। পাণ্ডবেশ্বরের পাশাপাশি আজ ইসিএলের ঝাঁঝরা এরিয়ার ৩/৪ কলিয়ারিতেও অভিযান চলে। কোলিয়ারির এক নিরাপত্তা আধিকারিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারি সংস্থা। ইসিএলের ভিজিল্যান্স ও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অভিযানের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে আধিকারিক ও খনি শ্রমিকদের মধ্যে।

Like Us On Facebook