লক গেট বেঁকে দামোদর ব্যারেজ থেকে জল বেরিয়ে যাওয়ায় দুর্গাপুর নগর নিগমের জল দপ্তর দুর্গাপুরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে মজুদ থাকা পানীয় জল থেকে প্রয়োজনীয় পানীয় জল ট্যাঙ্কার পাঠাতে শুরু করল দুর্গাপুর নগর নিগমের বিভিন্ন ওয়ার্ডে। এই সব ওয়ার্ডে বাড়ির ব্যবহারের জলের জন্যও দুর্গাপুর নগর নিগমের সরবরাহ করা জলের উপরই নির্ভরশীল। স্বাভাবিক ভাবেই শনিবার সকাল থেকে দুর্গাপুর নগর নিগম আপদকালীন ভিত্তিতে বিভিন্ন এলাকায় পানীয় জল পাঠানো শুরু করেছে।

এদিকে ব্যারেজ জলশূন্য ও সমূহ পানীয় জল সংকটের আঁচ করে শনিবার থেকেই দুর্গাপুরের এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী বোতল বন্দী জল চড়া দামে বিক্রি শুরু করে দিয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয় মানুষজনের। দুর্গাপুর নগর নিগম, পুলিশ ও প্রশাসন থেকে পরিস্থিত খুব শীঘ্রই স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে দাবি করা হলেও দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে পানীয় জল না পাওয়ায় সাধারণ মানুষ থেকে বিভিন্ন হাসপাতাল ও কলকারখানা কর্তৃপক্ষ সকলের কপালেই ভাঁজ পড়েছে।

এদিকে ব্যারেজ জলশূন্য হওয়াকে কেন্দ্র করে শনিবার থেকে দুর্গাপুরে রাজনৈতিক রঙ চড়তে শুরু করল। শনিবার দুর্গাপুর স্টেশন সংলগ্ন সেচ দপ্তরে সিপিএম সহ ১৩ টি বাম গণসংগঠন সেচ দপ্তরের ব্যর্থতা নিয়ে বিক্ষোভ দেখানোর পর দুর্গাপুর ষ্টেশনে সিটুর দলীয় কার্যালয়ে সিপিএম কর্মীরা তৃণমূলের বরো চেয়ারম্যান চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আক্রান্ত হয় বলে অভিযোগ সিপিএম নেতা পঙ্কজ রায় সরকারের। পঙ্কজবাবুর দাবি শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ দেখানোর পর তৃণমূল কর্মীরা সিটুর দলীয় অফিসের সামনে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে ও বিক্ষোভ দেখানোর অপরাধে মারল। এদিকে দুর্গাপুরের তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব মারধরের অভিযোগকে সাজানো গল্প বলে উড়িয়ে দেয়। শিল্পাঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বের পাল্টা অভিযোগ, সিপিএম ৩৪ বছরে কোন কাজ করেনি, এখন দুর্যোগপূর্ণ মুহূর্তে ঘোলা জলে মাছ ধরার রাজনীতি করতে নেমেছে।

এদিকে দামোদর ব্যারেজে ডিভিসি এবং ডিএসপির কর্মী ও ইঞ্জিনিয়াররা যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে ১ নম্বর লক গেট মেরামতির কাজ করে চলেছেন। মহকুমাশাসক শঙ্খ সাঁতরা বলেন, আজ সন্ধ্যের মধ্যে কাজ হয়ে যাবে বলে আশা করছি। তারপর মাইথন থেকে জল ছাড়া হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।

Like Us On Facebook