খনি অঞ্চলে পানীয় জলের সমস্যা দীর্ঘদিনের। পানীয় জলের সমস্যা মেটাতে প্রয়োজনীয় পানীয় জলের ট্যাঙ্ক দেওয়া হলেও তা মানুষের প্রয়োজনে পর্যাপ্ত নয়। প্রতি বছর এই সমস্যার সমাধানের দাবিতে খনি অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার মানুষ সরব হন। পানীয় জলের সমস্যা মেটানোর দাবি নিয়ে তাঁরা রাস্তায়ও নামেন। মানুষের ক্ষোভ দেখে সাময়িক সমস্যা সমাধানের পথ খুঁজতে ইসিএল বা স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জলের ট্যাঙ্ক সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরবর্তী সময়ে ফের চাতক পাখির মতো স্থানীয় মানুষকে পানীয় জলের সঙ্কটকে সঙ্গী করে এক ফোঁটা জলের জন্য দিন গুণতে হয়।

পশ্চিম বর্ধমান জেলার এই রকমই একটি অঞ্চল হল দুর্গাপুর-ফরিদপুর ব্লকের আমলৌকা গ্রাম। গ্রামে ৩০০ লোকের বসবাস। আমলৌকা গ্রামের পাশেই দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে গড়ে উঠেছে অন্ডাল বিমানবন্দর। অথচ এই আমলৌকা গ্রামে পানীয় জলের সঙ্কটে মানুষ জেরবার। গ্রামবাসীরা বলেন, ‘গোটা গ্রামে একটি মাত্র পানীয় জলের টিউব ওয়েল রয়েছে। পানীয় জলের সঙ্কট নিরসনে পিএইচই ডিপার্টমেন্ট পাইপ লাইনের মাধ্যমে পানীয় জল সরবরাহ করার চেষ্টা করেছিল কিন্তু তাও জল পৌঁছাচ্ছে না গ্রামের মানুষের ঘরে ঘরে। বাধ্য হয়ে গ্রামবাসীদের দু’কিমি দূরের গ্রাম থেকে পানীয় জল আনতে হয়। এই সমস্যার সমাধানের জন্য স্থানীয় মানুষ নাকি বার বার প্রশাসনের দ্বারস্থও হয়েছেন। চিঠি দিয়েছেন। ই-মেল পর্যন্ত করেছেন স্থানীয় ব্লক স্তর থেকে মহকুমা এবং জেলার প্রশাসনিক কর্তাদের। কিন্তু কোন ফল হয়নি বলে স্থানীয় মানুষের অভিযোগ। তাই আমলৌক গ্রামের মানুষ হতাশ।

গ্রামের মানুষের এই হতাশার কথা নিয়ে দুর্গাপুর-ফরিদপুর ব্লকের বিডিও দেবজিৎ দত্তকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘ওই এলাকায় পানীয় জলের সমস্যা মেটাতে প্রয়োজনীয় পানীয় জলের ট্যাঙ্ক দেওয়া হচ্ছে। পানীয় জল সরবরাহের বিষয়টি নিয়ে পিএইচই ডিপার্টমেন্ট প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। পিএইচই ডিপার্টমেন্ট জল সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কাজ করছে। আশা করছি খুব শীঘ্রই সমস্যা মিটে যাবে।’

দুর্গাপুর-ফরিদপুর ব্লকের সভাপতি তথা পশ্চিম বর্ধমান জেলার কর্মাধ্যক্ষ সুজিত মুখার্জী বলেন, ‘আমলৌকা গ্রামে পানীয় জলের সমস্যা রয়েছে। প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। পিএইচই পাইপ লাইনের মাধ্যমে পানীয় জল সরবরাহের ব্যবস্থা করেছে তবে ভৌগলিক অবস্থান অনুযায়ী আমলৌকা গ্রামটি একটু উঁচুতে হওয়ায় পাইপ লাইনের মাধ্যমে পানীয় জল আমলৌকা গ্রামে সঠিক ভাবে পৌঁছাচ্ছে না। তাই ফের ঘুরপথে অন্য একটি পাইপ লাইনের মাধ্যমে পানীয় জল সরবরাহ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে আমলৌকা গ্রামের মানুষের জন্য। আশা করছি খুব শীঘ্রই আমলৌকা গ্রামের মানুষ পানীয় জলের সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন।’

Like Us On Facebook