দুর্গাপুর চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের ৬১ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম ‌বণিকসভার বোর্ড গঠনের জন্য সাধারণ নির্বাচনে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ মোতায়েন করতে হল নির্বাচন কেন্দ্রের বাইরে। এই ঘটনায় দুর্গাপুরের বণিক মহলের অনেকেই ক্ষুব্ধ। রবিবার সকালে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। বিকেলে শেষ হয়। রবিবার মধ্যরাত্রি নাগাদ সম্পূর্ণ ফলাফল বের হবে। ২ বছর অন্তর বোর্ডের নির্বাচন হয়। ১৫ টি পদের জন্য এবার ৩৯ জন প্রার্থী। ৯২৫ জন ভোটার। প্রত্যেকে ১৫ টি করে ভোট দিয়ে তাঁদের পছন্দের প্রার্থীর জয় নিশ্চিত করছেন।

এদিন শাসকগোষ্ঠীর অনুগত প্রার্থীরা চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের ক্ষমতা ধরে রাখতে ফলস্ ভোটিং করছেন এই অভিযোগ তুলতেই শাসকগোষ্ঠীর অনুগত প্রার্থীরাও বিরোধী প্রার্থীদের পাল্টা জবাব দেন। তপ্ত বাদানুবাদে উতপ্ত হয় বণিকসভার অন্দরমহল। ভোট শেষ হওয়ার আগেই দুপুরের মধ্যেই বিরোধী প্রার্থীরা কার্যত জেতার আশা ছেড়ে দিয়েছেন। কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটলেও দুর্গাপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের কার্যালয়ে ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে পুলিশ মোতায়েন নিয়ে বণিক মহলে অসন্তোষ তীব্র হয়।

দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের গোড়া পত্তনের সঙ্গে সঙ্গে দুর্গাপুরের ব‍্যবসায়ীরা নিজেদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করতে দুর্গাপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ গঠন করেন ১৯৫৬ সালে। তখন সদস‍্য সংখ‍্যা ছিল মাত্র ২৫০ জনের মত। বর্তমান সদস‍্য সংখ্যা বেড়ে ৯২৫ জন। পরিসংখ্যানে সেই হারে সদস‍্য বাড়েনি দুর্গাপুর বণিকসভার। ব‍্যবসায়ীদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করতে না পারায় কেবল ৬১ বছরে ভরসার জায়গায় শুধু ক্ষোভ জমা হয়েছে বণিকসভার বিরুদ্ধে। বিভিন্ন‌ বিচ্ছিন্ন ঘটনার চাপা ক্ষোভ চেপে রাখতে এবং নির্বাচনে অসন্তোষ এড়াতে পুলিশ মোতায়েন বলে অনেকে মনে করছেন। ব‍্যবসায়ীদের সুখ দুঃখের সাথী না হয়ে ক্ষমতা ধরে রাখাটাই এখন একমাত্র কাজ বণিকসভার বলে অনেক ব‍্যবসায়ী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ ভবনের বাইরে এদিন ক্ষোভ উগরে দিলেন। অনেকে সদস‍্য পদ ছেড়ে দেওয়ারও হুমকি দেন।

Like Us On Facebook