কারও আসল বাড়ি ঝাড়খণ্ডে কিন্তু দুর্গাপুরে বাড়ি বলে স্থানীয় কাউন্সিলর বা পঞ্চায়েত প্রধানের শংসাপত্র দিয়েছেন। আবার কারও বাবার পদবীর সঙ্গে আবেদনকারীর পদবীর কোন মিল নেই। বা জন্ম শংসাপত্রতেও ভুরিভুরি গরমিল। কিন্তু সব আবেদকই এই গরমিলের শংসাপত্রের উপর নির্ভর করেই তফসিলি জাতি ও উপজাতি শংসাপত্রের জন্য আবেদন করেছেন দুর্গাপুর মহকুমাশাসক কার্যালয়ে।

সদ‍্য দুর্গাপুর মহকুমার প্রশাসনিক প্রধানের দায়িত্ব নিয়েই তফসিলি জাতি ও উপজাতি শংসাপত্র দেওয়ার ঘুঘুর বাসা ভাঙতে উদ্যোগী হলেন দুর্গাপুরের মহকুমা শাসক ডা. শ্রীকান্থ পাল্লী। মঙ্গলবার দুর্গাপুরের মহকুমা কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে জাতি শংসাপত্রের জন্য আবেদনকরীদের দেওয়া ভুরিভুরি গরমিল উপস্থিত সাংবাদিকদের দেখিয়ে মহকুমা শাসক বলেন, এই সব গরমিলের শংসাপত্র সহ অনেক আবেদক জাতি শংসাপত্র দেওয়ার জন্য আমাদের অফিসের কর্মীদের চাপ দিচ্ছে। অথচ ওই সব শংসাপত্রের আবেদন ভুলে ভরা।

মহকুমাশাসক ডা. শ্রীকান্থ পাল্লী বলেন, বহিরাগতদের সঠিকভাবে যাচাই না করেই গুরুত্বপূর্ণ এই তফসিলি জাতি ও উপজাতি শংসাপত্রের জন্য স্থানীয় কাউন্সিলর থেকে গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানরা স্বাক্ষর করে দিচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে দুর্গাপুরের মহকুমাশাসক যে বেশ চিন্তিত সে কথা উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে গরমিলের আবেদনের পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানান। মহকুমাশাসকের সঙ্গে দুর্গাপুর মহকুমা কার্যালয়ের কর্মীরাও একই কথা বলেন। মহকুমা শাসক বলেন, এবার থেকে জাতি শংসাপত্র বিষয়ে চারদিন মহকুমা দফতরে কাজকর্ম হবে। এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে মহকুমা প্রশাসন আবেদনের ভিত্তিতে সমস্ত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর তফসিলি জাতি ও উপজাতি শংসাপত্র দেওয়ার আগে জন শুনানির জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেদকের আবেদন পোষ্ট করা হবে। কোন অভিযোগ না এলে দুর্গাপুর মহকুমা কার্যালয় সেই আবেদককে এই শংসাপত্র দেবে। মহকুমাশাসক বলেন, এখন বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক খোঁজ খবর করা হচ্ছে, তবে অদূর ভবিষ্যতে এর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Like Us On Facebook