২০০৩ সালে দুর্গাপুরের বাসিন্দা রাজেন্দ্র প্রসাদ রোডের বাসিন্দা বাণী মিশ্র মরণোত্তর চক্ষুদান করেছিলেন দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানা হাসপাতালে। সেই চোখের সফল প্রতিস্থাপন হয় অন্যের চোখে। বাণী মিশ্রের ভাই রমেন্দ্রনাথ মিশ্র গর্বিত দিদির চক্ষু দানে। কেবলমাত্র রমেন্দ্রনাথবাবু নন মিশ্র বাড়ির সকলেই বাণীদেবীর দেখানো পথ অনুসরণ করে অঙ্গদানের মহান ব্রতে ব্রতী হয়েছেন। রমেন্দ্রনাথ মিশ্র বর্তমানে বাঁকুড়ার মেজিয়া পাওয়ার প্লান্টে কর্মরত। সিআইএসএফ কর্মী অসমের বরপেটা জেলার কলবাড়ির বাসিন্দা দিলীপ বায়েনও বর্তমানে মেজিয়া পাওয়ার প্লান্টে কর্মরত আছেন।

দিলীপবাবুর মেয়ে মধুস্মিতার গতকাল ব্রেন ডেথ হতেই মিশন হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের পরামর্শ মতো সহকর্মী রমেন্দ্রনাথ মিশ্র মধুস্মিতার অঙ্গ অন্যের দেহে প্রতিস্থাপনের জন্য অঙ্গদানের মাধ্যমে মেয়েকে বাঁচিয়ে রাখার মতো মহান কাজে উদ্বুদ্ধ করেন দিলীপবাবু ও তাঁর স্ত্রী অর্চনাদেবীকে।

এক্ষেত্রে মেজিয়ার সিআইএসএফের ডেপুটি কমান্ডেন্ট লাজ্জা সাহেবের অনুপ্রেরণাও রয়েছে বলে দাবি রমেন্দ্রনাথ মিশ্রের। রমেন্দ্রনাথবাবু বলেন, ‘আমাদের ডিপার্টমেন্টে ডেপুটি কমান্ডেন্ট লাজ্জা সাহেবের উদ্যোগে ডিপার্টমেন্টের অন্যান্য সিআইএসএস কর্মীরা দেহ দানের অঙ্গীকার করেছেন। স্বাভাবিকভাবেই দিলীপ বায়েনের মেয়ের ব্রেন ডেথ হতেই অঙ্গদানের জন্য আমরা উদোগি হই।’

উল্লেখ্য, দিলীপবাবু ও অর্চনাদেবীর দু’টি মেয়ে। বড় মেয়ে মধুস্মিতা। জন্ম থেকেই স্নায়ু রোগে আক্রান্ত। গত ১২ নভেম্বর অসুস্থতার কারণে দিলীপবাবু ও অর্চনাদেবী মেয়ে মধুস্মিতাকে দুর্গাপুরের মিশন হাসপাতালে ভর্তি করেন চিকিৎসার জন্য। ১৭ নভেম্বর ভোর রাতে মধুস্মিতার ব্রেন ডেথ ঘোষণা করেন চিনিৎসকরা। এরপর দিলীপবাবু ও অর্চনাদেবী মধুস্মিতার অঙ্গদানে সম্মতি দেওয়ায় মিশন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করে অঙ্গদানের ব্যবস্থা করেন। রবিবার মধুস্মিতার দুটি কিডনি ও লিভার অন্যের দেহে প্রতিস্থাপন করার উদ্দেশ্যে দুর্গাপুরের মিশন হাসপাতাল থেকে কলকাতার এসএসকেএম পর্যন্ত প্রায় ১৮০কিমি রাস্তা গ্রিন করিডর করে অঙ্গগুলি এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

এদিকে, মেয়েকে হারিয়ে দিলীপবাবু ও অর্চনাদেবী মেয়ের অঙ্গদান করে অন্যের দেহে সফল প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে মধুস্মিতাকে বাঁচিয়ে রাখার আশায় বুক বেঁধেছেন। অন্যদিকে রোজ রোজ আইনশৃঙ্খলা সামলাতে ব্যস্ত থাকা পুলিশবাহিনী রবিবার দিনভর দুর্গাপুর থেকে কলকাতা পর্যন্ত গ্রিন করিডর সামলে অঙ্গদানের মতো মাহান কাজে যুক্ত হতে পেরে নিজেদের ধন্য মনে করছে।

মধুস্মিতার বাবা ও মা

রমেন্দ্রনাথ মিশ্র



Like Us On Facebook