রাজস্থানের কোটাতে মেয়েকে কোচিং সেন্টারে ভর্তি করাতে গিয়ে উত্তর প্রদেশে রাতের ট্রেনে দুষ্কৃতিরা ব্যাগ ছিনিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় মা বাধা দেওয়ায় দুষ্কৃতিরা মা ও মেয়েকে চলন্ত ট্রেন থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলে দুর্গাপুরের রাঁচি কলোনির বাসিন্দা মীনা দেবী( ৪৫) ও তাঁর মেয়ে মনীষা কুমারীর (২৩) মৃত্যু হল। শুক্রবার রাত তিনটে নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছে নিজামুদ্দিন-তিরুবনন্তপুরম সেন্ট্রাল সুপার ফাস্ট এক্সপ্রেসে মথুরার বৃন্দাবন রোড স্টেশন এলাকায়। রেল পুলিশ মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। দুর্গাপুরের রাঁচি কলোনির মীনা দেবীর স্বামী দিলীপ ডোমকে রেল পুলিশ এই খবর দেয় বলে জানা গেছে।

মনীষা দুর্গাপুরের বিধান চন্দ্র ইনস্টিটিউশনের মেধাবী ছাত্রী। এবার মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষায়(নিট) কোয়ালিফাই করেও র‌্যাঙ্ক অনুযায়ী কোন সরকারি মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির সুযোগ মেলেনি। বিভিন্ন বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে পড়ার সুযোগ থাকলেও আর্থিক কারণে সেই সুযোগ নিতে পারেনি মনীষার পরিবার। তাই সামনের বছর নিট পরীক্ষায় আরও ভালো র‌্যাঙ্ক করার উদ্দেশ্যে রাজস্থানের কোটায় কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়ে প্রস্তুতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় মনীষা। নিট পরীক্ষায় বসার প্রস্তুতির জন্য রাজস্থানের কোটায় কোচিং সেন্টারে ভর্তি করাতে মা মীনা দেবী মেয়ে মনীষাকে নিয়ে যাচ্ছিলেন বলে জানা গেছে। মা ও মেয়ের মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর জানার পর মীনা দেবীর স্বামী দিলীপ ডোম রাতের ট্রেনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। দীলিপ বাবু রেল দফতরের কাছে দুষ্কৃতিদের খুঁজে বের করে উপযুক্ত শাস্তি এবং রাতের ট্রেনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার দাবি জানান।

জানা গেছে, রাজস্থানের কোটায় কোচিং সেন্টারে ভর্তি করানোর উদ্দেশ্যে বৃহস্পতিবার দুর্গাপুর থেকে পূর্বা এক্সপ্রেসে মীনা দেবী মনীষাকে নিয়ে দিল্লি পৌঁছান। তারপর শুক্রবার রাতে ভাইপো আকাশকে সঙ্গে নিয়ে রাজস্থানের কোটা পৌঁছাতে দিল্লি থেকে নিজামুদ্দিন-তিরুবনন্তপুরম সেন্ট্রাল সুপার ফাস্ট এক্সপ্রেসের এস-২ কোচের ১, ৩ ও ৪ নং আসনে তিনজন বসেন। রাত ১২টা নাগাদ ট্রেন ছাড়ার পর তিনজনই ঘুমিয়ে পড়েন। রাত তিনটা নাগাদ হঠাৎ ঘুম ভাঙলে মীনাদেবী দেখেন তাঁর ব্যাগ নিয়ে পালানোর চেষ্টা করছে দুষ্কৃতিরা। ওই ব্যাগর মধ্যেই ছিল মেয়ে মনীষার যাবতীয় ডকুমেন্ট। তাই মীনাদেবী দৌড়ে গিয়ে দুষ্কৃতিদের বাধা দেন। দুষ্কৃতীরা বাধা পেয়ে মীনাদেবীকে চলন্ত ট্রেন থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় বলে‌ অভিযোগ। চিৎকারে মেয়ে জেগে ওঠে। এবং মাকে বাঁচাতে গেলে মেয়ে মনীষাকেও একই ভাবে দুষ্কৃতিরা ট্রেন থেকে ধাক্কা দিয়ে নীচে ফেলে দেয় বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থলেই দু’জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। দুষ্কৃতীরা নিশ্চিন্তে ট্রেন থেকে নেমে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এরপর ভাইপো ঘুম থেকে উঠে সব জেনে রেল পুলিশের দ্বারস্থ হলে রেল পুলিশ মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

মর্মান্তিক মৃত্যুর এই খবর দুর্গাপুরের রাঁচি কলোনিতে পৌঁছালে মীনাদেবীর স্বামী দিলীপ ডোম কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্থানীয় মানুষ সহ স্থানীয় কাউন্সিলর সুস্মিতা ভুঁই রাতের ট্রেনে দুষ্কৃতি হানায় ট্রেনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সোচ্চার হন। মৃতদেহ দুটি রেল পুলিশ ময়নাতদন্তের পর দুর্গাপুরের উদ্দেশ্য পাঠিয়েছে। রবিবার দুপুর নাগাদ দুর্গাপুরের ২১ নং ওয়ার্ডের রাঁচি কলোনিতে মীনাদেবীদের বাড়িতে দেহ পৌঁছবে বলে জানা গেছে।

দিলীপ ডোম
Like Us On Facebook