শুক্রবার দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারের কলাবাগান অম্বুজা এলাকায় এক ভবঘুরে কিশোরীর গাছে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টার পর তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর জন্য পুলিশের সাহায্য চাওয়ায় এলাকা কার সেই অজুহাতে দুই থানার আধিকারিকরা যেভাবে দায়িত্ব এড়াতে প্রকাশ্যে দড়ি টানাটানি করলেন তাতে উপস্থিত সকলেই স্তম্ভিত হয়ে গেলেন। শেষমেশ শাসকদলের স্থানীয় এক নেতা মানবিকতার খাতিরে নিজের উদ্যোগে গুরুতর আহত ওই কিশোরীকে অটোতে চাপিয়ে সোজা মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করান।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সিটি সেন্টারের কলাবাগান অম্বুজা এলাকায় একটি গাছে এক ভবঘুরে কিশোরীকে স্থানীয় মানুষ গলায় দড়ি নিতে দেখে গাছ থেকে নামান। কোথায় কিভাবে তাঁকে চিকিৎসা দেওয়া যাবে সেই নিয়ে ওই এলাকায় ভীড় জমে হৈচৈ পড়ে যায়। ঠিক তখনই ওই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন এমএএমসির তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা শঙ্করলাল চট্টোপাধ্যায়। শঙ্করলালবাবু বাইক থামিয়ে কিশোরীকে হাসপাতালে ভর্তির জন্য স্থানীয় নিউ টাউনশিপ থানায় ফোন করেন। নিউ টাউনশিপ থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিক ঘটনাস্থলে এসে ঘটনাস্থল সিটি সেন্টারের অন্তর্গত, এটা তাঁর থানার এলাকার অন্তর্ভুক্ত নয় বলে দায়িত্ব এড়ান বলে অভিযোগ স্থানীয় মানুষের। এরপরেই শঙ্করলালবাবু একই ভাবে কিশোরীকে হাসপাতালে ভর্তির জন্য সিটি সেন্টার ফাঁড়িতে ফোন করেন। সিটি সেন্টারের ফাঁড়ির কর্তব্যরত পুলিশ আধিকারিক এসেও এটা তাঁর এলাকা নয় বলে এড়িয়ে যান বলে অভিযোগ। আহত কিশোরীকে মানবিকতার খাতিরে তড়িঘড়ি চিকিৎসার নুন্যতম ব্যবস্থা না করে দুই থানার আধিকারিকরা স্থানীয় মানুষের উপস্থিতিতে যেভাবে ভৌগোলিক অবস্থান নিয়ে দড়ি টানাটানি করলেন তা দেখে প্রত্যক্ষদর্শীদের মধ্যে গুঞ্জন শুরু হয়।

জানা গেছে, শেষমেশ শাসকদলের ওই নেতা শঙ্করলাল চট্টোপাধ্যায় স্থানীয় কাউন্সিলর তথা দুর্গাপুর পুরসভার ডেপুটি মেয়র অনিন্দিতা মুখার্জীকে ফোন করে কিশোরীকে অভয়াশ্রমে পাঠানোর আশ্বাস পেয়ে অটোতে চাপিয়ে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে সোজা দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করান।

Like Us On Facebook