করোনার জন্য এবারও রীতিমত সঙ্কটে পড়লেন বর্ধমান জেলার গোয়ালারা। আচমকাই বিভিন্ন বহুজাতিক সংস্থা গোয়ালাদের কাছ থেকে দুধ কেনা বন্ধ করে দেওয়ায় সঙ্কট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। সম্প্রতি বর্ধমানের জৌগ্রামের রেড কাউ কোম্পানির গেটের সামনে এই কারণে গোয়ালারা বিক্ষোভও দেখিয়েছেন। এই অবস্থায় মেমারি ও জামালপুর সংলগ্ন কিছু এলাকার গোয়ালাদের সমস্যা কিছুটা লাঘব করতে এবং একইসঙ্গে লক ডাউনের পরিস্থিতিতে অসহায় পরিবারের বিশেষত শিশুদের জন্য এগিয়ে এল মেমারির পাল্লারোড পল্লীমঙ্গল সমিতি।
পল্লীমঙ্গল সমিতির সম্পাদক সন্দীপন সরকার জানিয়েছেন, লক ডাউনে বিক্রি হচ্ছে না দুধ। বহুজাতিক সংস্থাগুলিও দুধ নেওয়া বন্ধ করেছে নোটিশ ছাড়াই। স্থানীয় বাজারে ৬০ থেকে ৭০ টাকায় দই মিলছে এই দুধ বিক্রির অভাবের জন্যই। তিনি জানিয়েছেন, লকডাউনের জেরে কাজ হারিয়ে অনেক গরীব মানুষ তাঁদের বাড়ির শিশুদের দুধের সংস্থান করতে পারছেন না। স্বাভাবিকভাবেই এই দুই সমস্যার সমাধান করতে তাঁরা উদ্যোগী হয়েছেন। সন্দীপনবাবু জানিয়েছেন, স্থানীয় গোয়ালাদের কাছ থেকে তাঁদের উদ্বৃত্ত দুধ তাঁদের খরচটুকু দিয়ে সামান্য দামে তাঁরা কিনে নিচ্ছেন। আর সেই দুধ মাত্র ৪ টাকা কেজি প্রতি হিসাবে অর্থাৎ মাথা পিছু মাত্র ১ টাকায় ১পোয়া দুধ দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন তাঁরা প্রতিদিন। প্রতিদিন সমিতির প্রাঙ্গণে বিকাল ৪.৩০টা থেকে ৫.৩০টা অবধি মিলবে এই সুবিধা। স্থানীয় গরীব শিশুরা যাতে এই করোনাকালে সুষম আহার পায় এবং গোয়ালাদেরও এই অসুবিধা থেকে কিছুটা রেহাই দেওয়া যায় তার জন্যই এই উদ্যোগ তাঁদের। তিনি জানিয়েছেন, আপাতত তাঁরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রতিদিন ৩০০ জনকে এই সুবিধা দেওয়া হবে। যতদিন লকডাউন থাকবে ততদিন এই ব্যবস্থা চলবে বলে জানা গেছে।







