সাংসদকে এই ধরণের পোস্ট কার্ড পাঠাবে বামেরা

অ্যালয় স্টিল প্লান্ট(এএসপি) বিলগ্নিকরণের প্রশ্নে কথা রাখলেন না বর্ধমান-দুর্গাপুর লোকসভা আসনের বিজেপি সাংসদ সুরিন্দর সিং আলুওয়ালিয়া, এই অভিযোগে সাংসদের ঠিকানায় ২৫ হাজার পোস্ট কার্ড পাঠিয়ে অভিনব কায়দায় প্রতিবাদ আন্দোলন গড়ে তুলতে পথে নামছে দুর্গাপুরের ১৩ টি বাম সংগঠন। বাম সংগঠনগুলির অভিযোগ, লোকসভা নির্বাচনের আগে কারখানা বাঁচানোর কথা দিয়েছিলেন সুরিন্দর সিং আলুওয়ালিয়া। কিন্তু বর্ধমান-দুর্গাপুর লোকসভা আসনে জেতার পর ফের এএসপি বিক্রির জন্য কেন্দ্রীয় সরকার গ্লোবাল টেন্ডার করল। এতে দুর্গাপুরের শ্রমিক মহল আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। অথচ বিজেপি সাংসদের কোন হেলদোল নেই। উল্টে সাংসদ এএসপি কারখানা বাঁচানোর প্রশ্নে কৌশলী অবস্থান নিয়েছেন।

জানা গেছে, দুর্গাপুরের ১৩ টি বাম সংগঠন একত্রিত ভাবে মঙ্গলবার থেকে এএসপি বাঁচাতে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে নামছে। প্রাথমিক ভাবে ১৩ টি বাম সংগঠন ২৫ হাজার পোস্ট কার্ড সংগ্রহ করে সেই পোস্ট কার্ডে ‘সুরিন্দর বিশ্বাসঘাতক’ লিখে সাংসদ সুরিন্দর সিং আলুওয়ালিয়ার ঠিকানায় পোস্ট করবে। পোস্ট কার্ডের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের বাম কর্মীরা ইমেলেও প্রতিবাদ পাঠাবে। সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়াকে হাতিয়ার করে সাংসদ সুরিন্দর সিং আলুওয়ালিয়ার বিরুদ্ধে এএসপি কারখানা বাঁচাতে কথা না রাখার বিরুদ্ধে জনমত গঠন করবে বাম নেতৃত্বের নুতন প্রজন্ম।

বাম সংগঠন গুলির সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুর্গাপুর এসবিএসটিসি গ্যারেজ সংলগ্ন দুর্গাপুরের ১ নং পোস্ট অফিস থেকে ২৫ হাজার পোস্ট কার্ড পাঠানোর কাজ শুরু করা হবে। দুর্গাপুরের বিভিন্ন পোস্ট অফিস থেকে ইতিমধ্যে পোস্ট কার্ড সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে বাম সংগঠনগুলির কর্মীরা। সিপিএম নেতা পঙ্কজ রায় সরকার বলেন, ‘লোকসভা নির্বাচনের আগে সুরিন্দর সিং আলুওয়ালিয়া বলেছিলেন এএসপি বিক্রি হবে না। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার ফের ক্ষমতায় এসে এএসপি কারখানা নিয়ে গ্লোবাল টেন্ডার করল। ১ আগস্ট টেন্ডারে অংশ নেওয়ার শেষ দিন। অথচ ভোটে জিতে সাংসদ হয়ে সুরিন্দর সিং আলুওয়ালিয়া এএসপি কারখানা নিয়ে কার্যত কৌশলী অবস্থান নিয়েছেন। কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তকেই যে সমর্থন করছেন তিনি তা তাঁর কথাতেই ইঙ্গিত মিলছে।’ পঙ্কজবাবু বলেন, ‘এখন এএসপি কারখানা বিক্রির গ্লোবাল টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে এই সময় এএসপি কারখানা নিয়ে প্রশ্ন করলেই সাংসদ মেজাজ হারিয়ে ফেলেছেন। এএসপি কারখানা বাঁচাতে শ্রমিকদের স্বার্থে তাই আমরা বৃহত্তর আন্দোলনের পথ বেছে নিলাম। ১ আগস্ট পর্যন্ত আমরা সাংসদের ঠিকানায় পোস্ট কার্ড পাঠিয়ে অভিনব কায়দায় প্রতিবাদ করব। এএসপি কারখানায় কোপ পড়লেই ডিএসপি কারখানাতেও কোপ পড়বে। তাই শিল্পাঞ্চলের সমস্ত স্তরের মানুষকে আমি দুর্গাপুর বাঁচাতে এই প্রতিবাদ আন্দোলনে সামিল হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’

পঙ্কজ রায় সরকারের মতো একই ভাবে এএসপি কারখানা বাঁচাতে পৃথক আন্দোলনের কথা ঘোষণা করে দুর্গাপুরের সর্ব স্তরের মানুষকে এএসপি কারখানা বাঁচাতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান আইএনটিটিইউসি শ্রমিক নেতা প্রভাত চট্টোপাধ্যায়। প্রভাত চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘আমি এএসপি কারখানায় চাকরি করেছি। এএসপি কারখানায় দেশের সামরিক বাহিনীর জন্য উন্নত মানের স্টিল তৈরি হয়। এএসপি কারখানায় সামান্য বিনিয়োগ করলেই কারখানাকে পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব হবে। অথচ বিজেপি সরকার এই এএসপি কারখানাকে এখন বিক্রি করতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে। আগামী ১০ তারিখ থেকে আমরা তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরা এএসপি কারখানা বাঁচাতে পথে নেমে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে লাগাতার আন্দোলন গড়ে তুলবো।’ এএসপি কারখানা বাঁচাতে যখন রাজনৈতিক তরজা চরমে পৌঁছেছে এএসপি কারখানার স্থায়ী-অস্থায়ী মিলে প্রায় ২০০০ কর্মী এখন চরম আতঙ্কে রয়েছেন।

বর্ধমান ডট কম-এর খবর নিয়মিত আপনার ফেসবুকে দেখতে চান?

Like Us On Facebook