আধার কার্ডে জন্ম তারিখ ১ জানুয়ারি ১৯১৮। হিসেব করলে বয়স একশো পেরিয়েছে। কিন্তু সুঠাম দেহ দেখে তাঁর বয়স আন্দাজ করা কঠিন। স্বাধীনতা সংগ্রামী অজিত কুমার মুখোপাধ্যায় এখনও প্রত‍্যেকদিন ফ্রি-হ‍্যান্ড ব‍্যায়াম করেই বয়স ধরে রেখেছেন। সিজন চেঞ্জের জ্বর-সর্দি-কাশি ছাড়া আর কানে কম শোনা ছাড়া অন্যান্য সব ব‍্যাধিই কার্যত শত বর্ষের এই স্বাধীনতা সংগ্রামীর কাছে হার মেনেছে।

কথা প্রসঙ্গে অজিতবাবু বলেন, পরাধীন ভারতে ইংরেজদের সঙ্গে লড়তে গেলে আগে শরীরকে সুস্থ ও চাঙা রাখতে হত সব ছাত্রনেতা, কর্মী ও স্বাধীনতা সংগ্রামীদের। এই জন্য বিভিন্ন ব‍্যায়ামাগারের জন্ম হয়েছিল সেইসময়। প্রত‍্যককে দেহ সুস্থ ও চাঙা রাখতে নিয়মিতভাবে ব‍্যায়ামাগারে যেতেই হত। সেই থেকেই আমাদেরও ব‍্যায়ামই জীবন হয়ে গেছে। অজিতবাবু বলেন, আমারাও ইংরেজদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সামিল হই। তবে চল্লিশের দশকে বাঁকুড়ার খ্রীষ্টান কলেজে পড়ার সময় ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে আমি যুক্ত হই। কলেজে সিরাজউদ্দৌলা নাটকের আগে বন্দেমাতরম ধ্বনি দিতে নিষেধ করেছিল কলেজ কর্তৃপক্ষ। আর আমরা এর প্রতিবাদে বাঁকুড়া শহরের বিভিন্ন জায়গায় ইংরেজদের বিরুদ্ধে লাগাতার আন্দোলন গড়ে তুলি। সেই শুরু হয় আমার আন্দোলন। তারপর বিভিন্ন আন্দোলনে দেশবরেণ্য নেতাদের ডাকে ছুটে গেছি। কত অত‍্যাচার সহ‍্য করেছি। কিন্তু ইংরেজদের বিরুদ্ধে লড়তে শরীরচর্চা ছাড়িনি কোন দিন।

অজিত কুমার মুখোপাধ্যায়ের আসল বাড়ি বাঁকুড়ায়। দামোদরের ওপাড় বানজোড়ায়। বর্তমান ঠিকানা দুর্গাপুরের ২১ নং ওয়ার্ডের অন্তর্গত সারদাপল্লীতে। ছোট ছেলে শুভাশিষ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে আছেন অজিতবাবু। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে অজিতবাবু ভূমি রাজস্ব দফতরে কর্মী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। অবসরের পরে পরিবারের সঙ্গেই দিন কাটাচ্ছেন এবং ফ্রি-হ‍্যান্ড ব‍্যায়ামকে সঙ্গী করেই দিব্যি আছেন। গান শুনতে ভালোবাসেন। তবে কানে কম শোনায় গান শোনা এখন বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কথা প্রসঙ্গে অজিতবাবু বলেন, বর্তমান বিশৃঙ্খল নীতিহীন রাজনৈতিক পরিমণ্ডলের কোন চর্চায় তিনি থাকতে পছন্দ করেন না। তাই সংসার ও ব‍্যায়ামই অবসর জীবনের একমাত্র সাথী। স্বাধীনতা সংগ্রামী ছাত্র আন্দোলনের জেরে তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতার শংসাপত্র ইংরেজরা কেড়ে নিয়েছিল অথচ প্রশাসন অজিতবাবুর কোন খোঁজ না নেওয়ায় তাঁর অভিমান এখনও রয়ে গেছে।


Like Us On Facebook