সুবর্ণ জয়ন্তী বর্ষে ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন রাজবা়ঁধ ডিপো সম্প্রসারণের জন্য ৪৪ কোটি টাকা ব্যয় করার কথা ঘোষণা করল। একই সঙ্গে রাজবাঁধ ডিপো অত্যাধুনিক করতে এবং তেল চুরি ও ভেজাল বন্ধ করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও ঘোষণা করা হয়। রাজবাঁধ ডিপো প্রতিষ্ঠার সুবর্ণ জয়ন্তী বর্ষ উপলক্ষে রাজবাঁধ ডিপোয় শনিবার এক অনুষ্ঠানে একথা ঘোষণা করেন ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনের রাজবাঁধ টার্মিনালের চিফ টার্মিনাল ম্যানেজার বিনীত আগরওয়াল।
রাজবাঁধ ডিপোর নিজস্ব জমি থাকায় জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন নেই। স্বাভাবিক ভাবেই খুব শীঘ্রই এই সম্প্রসারণের কাজ শুরু করতে চলেছে আইওসি বলে দাবি আইওসির এই পদস্থ কর্তার। বর্তমানে রাজবাঁধ ডিপো থেকে প্রতিদিন ২০০র অধিক ট্যাঙ্কার লোডিং হয়। পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান জেলা ছাড়াও বাঁকুড়া, বীরভূম, পুরুলিয়া, মুর্শিদাবাদ ও ঝাড়খণ্ডে তেল সরবরাহ করা হয় রাজবাঁধ ডিপো থেকে। ইতিপূর্বে তেল লোডিং-এর পুরো প্রক্রিয়াটি ম্যানুয়ালি করা হত। ফলে সময় সাপেক্ষ ছিল। বর্তমানে তেল লোডিং প্রক্রিয়াটি কম্পিউটারাইজড ও অটোমেটিক। স্টেট অফ দি আর্ট স্মার্ট টার্মিনালের আখ্যা পাওয়া রাজবাঁধ টার্মিনালে বর্তমানে একটি ট্যাঙ্কার ডিপোয় ঢোকা থেকে তেল লোড করে বেরিয়ে আসতে মাত্র ৪৫ মিনিট মত সময় লাগে। পুরো প্রক্রিয়াটি অটোমেটেড হওয়ায় ট্যাঙ্কার পিছু প্রায় ৪৫ মিনিট সময় সাশ্রয় সম্ভব হচ্ছে।
এদিন আইওসির রাজবাঁধ ডিপোর চিফ টার্মিনাল ম্যানেজার বিনীত আগরওয়াল বলেন, বর্তমানে রাজবা়ঁধ ডিপো থেকে তেল সরবরাহ করার সময় কোন রকম কারচুপি রুখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এই ব্যবস্থা আরও উন্নত করতে কর্তৃপক্ষ ই-লকিং সিস্টেম খুব শীঘ্রই চালু করতে চলেছে বলে জানান আইওসির রাজবাঁধ ডিপোর চিফ টার্মিনাল ম্যানেজার। বর্তমানে রাজবাঁধ ডিপোয় আটটি ডিজেল, পাঁচটি পেট্রোল, ছটি কেরোসিন ও দুটি ভূগর্ভস্থ ইথানল ট্যাঙ্ক রয়েছে। ট্যাঙ্কারগুলির নিরাপত্তায় ২০০৪ সালের ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে রাজবা়ঁধ ডিপোতে অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় উন্নতি ঘটনো হয়েছে বলে দাবি করেন এদিন আই ওসির রাজবা়ঁধ ডিপোর নিরাপত্তা আধিকারিক রবি ভূষন। সমস্ত কর্মীদের ডিপোতে ঢোকা ও বের হওয়ার সময় প্রয়োজনীয় তল্লাসি চালানো হয়। আপদকালীন পরিস্থিতির জন্য সবসময় পর্যাপ্ত জলের ট্যাঙ্ক, ফোম, কেমিক্যাল পাউডার মজুদ রাখা আছে।







