পেট্রোপণ্যের উত্তোরত্তর মূল্যবৃদ্ধি সত্বেও রাজ্য সরকার বাস ভাড়া বৃদ্ধিতে বাধা হয়ে দাঁড়ানোয় দুর্গাপুরের মিনিবাস সংগঠনের আন্দোলনের রূপরেখা ও গতিপ্রকৃতি কি হবে সেই নিয়ে চরম ধন্দে পড়েছে দুর্গাপুর মিনিবাস সংগঠনের কর্তাব্যক্তিরা। যে হারে ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে সেই পরিপ্রেক্ষিতে দুর্গাপুর সাব-ডিভিশন মিনিবাস অপারেটার্স অ্যাসোসিয়েশন ও দুর্গাপুর প্যাসেঞ্জারস ক্যারিয়ারস অ্যাসোসিয়েশনের কর্তারা চান় এই মুহূর্তে মিনিবাসের ভাড়া বৃদ্ধি ঘটাতে। কিন্তু রাজ্য সরকার এখনও পর্যন্ত কোন মিনিবাস সংগঠনের কর্তাদের প্রস্তাবে সাড়া না দেয়ায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বলে অভিযোগ করেন দুই সংগঠনের কর্তারা।
দুর্গাপুর প্যাসেঞ্জারস ক্যারিয়ারস অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে খবর, সংগঠনের রাজ্য নেতারা বাস পরিষেবা বন্ধের বিরোধিতা করায় দুর্গাপুর প্যাসেঞ্জারস ক্যারিয়ারস অ্যাসোসিয়েশনের কর্তারা বাস পরিষেবা বন্ধ না করে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে ভাড়া বৃদ্ধির পক্ষে বলছেন। কিন্তু দুর্গাপুর মিনিবাস মালিক সংগঠন সূত্রে খবর, সংগঠনের রাজ্য নেতাদের একাংশের সিদ্ধান্তে দুর্গাপুর সাব-ডিভিশন মিনিবাস অপারেটার্স অ্যাসোসিয়েশন প্রথমে মিনিবাস পরিষেবা ৫ জুন থেকে সম্পূর্ণ বন্ধ রেখে ভাড়া বৃদ্ধির জন্য চাপ তৈরি করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু শাসকদলের অনুগত সংগঠনের অধীনে থেকে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে গিয়ে ভাড়া বৃদ্ধির আন্দোলন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে দুই সংগঠনের কর্তাব্যক্তিদের বলে খবর। তাই দুর্গাপুরের দুই মিনিবাস সংগঠনের কর্তারা আপাতত একমত হয়ে বাস পরিষেবা বন্ধ না করে সরকারের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষেই ভাড়া বৃদ্ধির পথে হাঁটতে চলেছেন বলে জানা গেছে।
সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত খবর, ৫ জুন ফের মিনিবাস সংগঠনের মিটিংয়ের পর এবিষয়ে পরিষ্কার চিত্র পাওয়া যাবে বলে জানা গেছে। দুর্গাপুর বাস প্যাসেঞ্জারস ক্যারিয়ারস অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক কাজল দাস বলেন, টোটো-অটোর যখন তখন ভাড়া বৃদ্ধি হচ্ছে অথচ মিনিবাসের ভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে যত বিপত্তি। উত্তোরত্তর ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ভাড়া বৃদ্ধি না ঘটায় আর্থিক লোকসানে পড়ে মিনিবাস পরিষেবা চালু রাখা দায় হয়ে পড়েছে। তথাপি মিনিবাস পরিষেবা আমরা বন্ধের পক্ষে নই। যাত্রী পরিষেবা অটুট রেখে আমরা সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেই প্রস্তাবিত অঙ্কে ভাড়া বৃদ্ধি করতে চাই। কাজলবাবু আরও বলেন, ১০ জুনের মধ্যে সরকার ভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাবে কোন সাড়া না দিলে রুগ্ন পরিবহণ শিল্প, মিনিবাস পরিষেবা অটুট রাখতে জোর করে নয় আমরা অনুরোধ করে মিনিবাসের যাত্রীদের কাছ থেকে দু’টাকা করে আর্থিক ক্ষতির প্রলেপ দিতে ডোনেশন চাইব। আশা করি সহৃদয় যাত্রীরা আমাদের সেই অনুরোধ রাখবেন।
উল্টোদিকে দুর্গাপুর সাব-ডিভিশন মিনিবাস অপারেটার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক অলোক চট্টোপাধ্যায় বলেন, আমরাও বাস পরিষেবা বন্ধের বিরোধী। এমনিতেই ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে পঞ্চাশ শতাংশ মিনিবাস আর্থিক লোকসানে পড়ে বন্ধ হয়ে গেছে। কর্মীদের বেতন দিতে পারা যাচ্ছে না। মিনিবাসগুলি মালিকরা চরম আর্থিক সঙ্কটের মধ্যে পড়েছেন। অলোকবাবু আরও বলেন, আমরা সারা বছর বিভিন্ন প্রয়োজনে মিনিবাস দিয়ে বিভিন্ন সময় সরকারের পাশে থাকি অথচ সরকার সব জেনে চুপ করে আছে এবং ভাড়া বৃদ্ধির বিপক্ষে অবস্থান করছে। অলোকবাবু বলেন, এখুনি বাস ভাড়া বৃদ্ধি না করলে মিনিবাস পরিষেবা একদম শেষ হয়ে যাবে। প্রচুর মিনিবাস কর্মচারী কর্মচ্যুত হবেন। আমরা খুব হতাশ হয়ে পড়েছি।










