আট ঘন্টা সিটি সেন্টার অবরুদ্ধ করে শেষমেশ গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থার সঙ্গে বৈঠক করার প্রশাসনিক আশ্বাস পেলেন দুর্গাপুরের সিএনজি অটো চালকরা। বুধবার সকাল দশটা থেকে দুর্গাপুরের সিএনজি অটো চালকরা দুর্গাপুরের প্রাণকেন্দ্র দুর্গাপুর পুরসভা এলাকা সহ জাতীয় সড়ক পর্যন্ত অটো দিয়ে অবরোধ করে রাখেন। দুর্গাপুর পুরসভার কাউন্সিলররাও মেয়র পারিষদ প্রভাত চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এদিন অটো চালকদের পাশে দাঁড়ান। দুর্গাপুর মহকুমা প্রশাসন কার্যালয়ের সামনেও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন অটো চালকরা। অটো চালকরা দ্রুত সিএনজি গ্যাস পরিষেবা স্বাভাবিক করতে কয়েকদিন ধরেই ধাপে ধাপে অবরোধ কর্মসূচির মাধ্যমে আন্দোলন করছেন। প্রশাসনের উপর আরও চাপ বাড়াতে বুধবার সিটি সেন্টারের বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ডিএমসি থেকে জাতীয় সড়ক এলাকায় অবরোধ করেন।

অবরোধ-বিক্ষোভ কর্মসূচিতে এদিন কার্যত সিটি সেন্টার এলাকায় যান চলাচল স্তব্ধ হয়ে যায়। দুর্ভোগে পড়েন অফিস যাত্রী থেকে পথ চলতি মানুষ। আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের পক্ষ থেকেও বার বার বিক্ষোভকারীদের অবরোধ তুলে নিতে অনুরোধ করা হয়। শেষমেশ সন্ধ্যায় দুর্গাপুরের মহকুমাশাসক অনির্বাণ কোলে অটোচালকদের সঙ্গে এক বৈঠকে সিএনজি গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার বিষয়ে জেলাশাসক শশাঙ্ক শেঠির কাছে অটো চালকদের দাবি পৌঁছে দেন। জেলাশাসক যত দ্রুত সম্ভব সিএনজি গ্যাস সরবরাহ করার বিষয়ে আশ্বাস দিলে সন্ধ্যা ছ’টা নাগাদ অবরোধ তুলে নেন অটো চালকরা।

অটো চালকদের পক্ষে প্রদীপ বিশ্বাস বলেন, ‘২২ দিন ধরে দুর্গাপুরে সিএনজি অটো পরিষেবা বন্ধ। যাত্রীদের অসুবিধার সঙ্গে সঙ্গে অটো চালকদের পেটেও টান পড়েছে। আসানসোল থেকে সিএনজি গ্যাস আনতে গিয়ে ১২ জন অটো চালক জাতীয় সড়কের উপর দুর্ঘটনার কবলে পড়ে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি। অথচ প্রশাসন নির্বিকার। আজ আমরা কেবলমাত্র সিটি সেন্টার স্তব্ধ করে দিয়েছি। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে এরপর আমার ফের অবরোধ কর্মসূচির মাধ্যমে দুর্গাপুর স্তব্ধ করে দেব।’

উল্লেখ্য, সিএনজি গ্যাস সিলিন্ডার বহনকারী ট্রাক চালকদের ধর্মঘটের কারণে ২২ দিন সিএনজি গ্যাস সরবরাহ বন্ধ দুর্গাপুরে। আসানসোলে পাওয়া গেলেও অটো চালকরা সেই গ্যাস আনতে গিয়ে জাতীয় সড়কে একের পর এক দুর্ঘটনায় পড়েছেন অটো চালকরা। অপরদিকে অটো চালকদের রুজি রোজগারেও টান ধরেছে। যাত্রীরাও পড়েছেন চরম দুর্ভোগে।

বর্ধমান ডট কম-এর খবর নিয়মিত আপনার ফেসবুকে দেখতে চান?


Like Us On Facebook