দুর্গাপুরের বেঙ্গল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ইলেকট্রনিক্স বিভাগের চার ছাত্রী অল ইন্ডিয়া কাউন্সিল ফর টেকনিক্যাল এডুকেশন (এআইসিটিই) আয়োজিত সর্বভারতীয় প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় পুরস্কার পেল। সম্প্রতি এআইসিটিই তাদের অনুমোদিত ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলির মধ্যে ‘ছাত্র বিশ্বকর্মা অ্যাওয়ার্ড ২০১৭’র আয়োজন করে। এই প্রতিযোগিতায় সারা দেশের ৯৬৫টি কলেজ আবেদন করে। চূড়ান্ত পর্যায়ে পশ্চিমবঙ্গের ৪টি কলেজ সহ মোট ৫৫টি কলেজের পড়ুয়ারা তাদের উদ্ভাবিত বিভিন্ন প্রজেক্ট প্রদর্শন করার সুযোগ পায়। ‘আউটস্ট্যান্ডিং স্টুডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স’ ক্যাটেগরিতে দুর্গাপুরের বেঙ্গল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ইলেকট্রনিক্স বিভাগের চার ছাত্রীর তৈরি করা ‘পাওয়া জেনারেশন বাই ফুট স্টেপ’ প্রজেক্ট সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় পুরস্কার পায়। বেঙ্গল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ইলেকট্রনিক্স বিভাগের অধ্যাপক সমীর বসাকের নেতৃত্বে জাগৃতি জয়সোয়ার, অঞ্জলি কুমারি গুপ্তা, রীতু কুমারি ও সীমা রায় চাপশক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করার এই প্রজেক্ট তৈরি করে বিচারকদের নজর কাড়ে।
অধ্যাপক সমীর বসাকের দাবি বর্তমান সময়ে সোলার সিস্টেম বা অন্যান্য অপ্রচলিত শক্তির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ‘পাওয়ার জেনারেশন বাই ফুট স্টেপ’ এর মাধ্যমে উৎপাদিত বিদ্যুৎ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ করবে। অধ্যাপক সমীর বসাক আরও জানান আগামী ছয় মাসের মধ্যে এই প্রজেক্টের বাণিজ্যিকিকরণ করা সম্ভব হবে। শীঘ্রই পেটেন্টের জন্য আবেদন করা হবে। তিনি বলেন, এটি প্রথমে ভারতীয় রেলকে বিভিন্ন স্টেশনে প্ল্যাটফর্মের সিঁড়িতে বসানোর জন্য আবেদন করা হবে। তারপর বিভিন্ন শপিং মলের সিঁড়িতেও এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিবেশবান্ধব উপায় নিয়ে গবেষণা হচ্ছে সারা বিশ্বেই। যেসব জায়গা দিয়ে দিনে অসংখ্য মানুষ যাতায়াত করে সেই সব জায়গায় এই ধরণের পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি ব্যবহার করে সহজেই বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে। সম্প্রতি শিরডির সাইবাবা মন্দিরে ভক্তদের পদচালনা থেকে বিদ্যুৎ তৈরি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ৫০ হাজার দর্শনার্থী সাইবাবার মন্দিরে আসেন। দর্শনার্থীরা যে পথে যাতায়াত করেন, সেখানে ‘এনার্জি পেডাল’ বসানো হবে বলে জানিয়েছেন শিরডি কর্তৃপক্ষ। এনার্জি পেডাল বসানো মেঝে দিয়ে যখন কেউ হাঁটবেন, তখন এই এনার্জি পেডালগুলির ওপর চাপ পড়বে। এই চাপশক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করে পরে তা মন্দিরে ব্যবহার করার জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।







