সিটি সেন্টারে গত ১৬ নভেম্বর অবনীন্দ্রনাথ বীথির বৃদ্ধ সত্যরঞ্জন খাঁড়া খুনের তদন্ত গতি এল। পুলিশ বৃহস্পতিবার রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সিটি সেন্টার এলাকা থেকে সত্যরঞ্জন খাঁড়া খুনে জড়িত সন্দেহে প্রভাকর প্রসাদ ও দেবাশীষ দত্ত নামে দু’জনকে গ্রেপ্তার করে শুক্রবার দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে হাজির করলে পুলিশের আবেদন মঞ্জুর করে বিচারপতি ১০ দিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দেন।
এর আগে মৃত সত্যরঞ্জনবাবুর বাড়ির পারিচারিকা নমিতা মোদককে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। এখনও পর্যন্ত দুর্গাপুরের প্রাণকেন্দ্র সিটি সেন্টারে এই মার্ডার কেসে পুলিশ মোট তিন জনকে গ্রেপ্তার করল। ১৬ নভেম্বর গভীর রাতে সিটি সেন্টারের অবনীন্দ্রনাথ বীথির নিজের বাড়িতে খুন হন বৃদ্ধ সত্যরঞ্জন খাঁড়া। সত্যরঞ্জন বাবুর স্ত্রী আগেই মারা গেছেন। একমাত্র ছেলে সুমিত খাঁড়া ওরফে বাপি পুরানো গাড়ি কেনাবেচার ব্যবসায় যুক্ত। ব্যবসায়িক কারণে সুমিতবাবু বাড়ির বাইরে থাকায় নিঃসঙ্গ বৃদ্ধ সত্যরঞ্জনবাবুকে বাড়ির পারিচারিকা নমিতা মোদক দেখাশোনা করত। বাড়ির চাবিও তার কাছেই থাকত।
সত্যরঞ্জন খুনের দিনও নমিতার কাছেই বাড়ির চাবি ছিল। বাড়ির সামনের দরজার তালা বন্ধ অথচ বাড়ির ভিতর খুন হন সত্যরঞ্জন খাঁড়া। পুলিশ প্রাথমিক ভাবে চোরাই গাড়ি চক্রের বিবাদে যে এই খুন মোটামুটি সেই সন্দেহেই খুনের তদন্তে নেমে বাড়ির পারিচারিকা নমিতা মোদককে প্রথমে গ্রেপ্তার করে। সত্যরঞ্জনবাবুর ছেলে সুমিত খাঁড়াকেও পুলিশ আটক করে প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদ করে কিন্তু প্রযোজনীয় তথ্য হাতে না থাকায় সেই সময় সুমিতকে পুলিশ ছেড়ে দেয়। এর পর খুনের তদন্ত শ্লথ হয়ে পড়ে। ফের বৃহস্পতিবার সত্যরঞ্জন খুনের অভিযোগে প্রভাকর প্রসাদ ও দেবাশীষ দত্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ নিজেদের হেপাজতে নেওয়ায় এবার সত্যরঞ্জন খুনের কিনারা হবে বলে পরিজনরা বিচারের আশায় বুক বাঁধছেন।







