দুর্গাপুরের সেচ্ছাসেবী সংস্থার সদস্য অঙ্কুর সামন্ত পোস্তদানার উপর তেরঙ্গা জাতীয় পতাকা এঁকে ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডসে জায়গা করে নিয়ে সর্বভারতীয় খ্যাতি অর্জন করলেন। অঙ্কুর সামন্ত মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে তুলি আর ফেব্রিক কালার সহযোগে একটি পোস্তদানার উপর গেরুয়া-সাদা-সবুজ জাতীয় পতাকা মধ্যে অশোক চক্র এঁকে ফেলেন। একটি ছোট্ট পোস্তদানার উপর তেরঙ্গা জাতীয় পতাকা আঁকা বেশ দুঃসাধ্য বিষয়। বাঁকুড়া উন্নয়নী ইনস্টিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র অঙ্কুর সামন্ত খালি চোখে তুলির আঁচড়ে নিমেষেই একটি পোস্তদানার উপর ভারতের জাতীয় পতাকা এঁকে ফেলতে পারেন। তাঁর এই অনন্য কৃতিত্বকে স্বীকৃতি দিল ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডস কর্তৃপক্ষ।

চলতি বছরের ২১ আগস্ট ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডস কর্তৃপক্ষের সামনে অঙ্কুর তাঁর এই কৃতিত্ব তুলে ধরেন। এরপর ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডস কর্তৃপক্ষ আজ, ২৪ সেপ্টেম্বর তাঁর কৃতিত্বের জন্য তাঁকে শংসাপত্র দিয়ে সম্মানিত করে। ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডসে নাম তুলে অঙ্কুর সামন্ত বর্ধমান ডট কমকে একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আজ আমার খুব ভাল লাগছে যে আমি আমার লক্ষ্যে পৌঁছতে পেরেছি। আমার পরবর্তী লক্ষ্য, একটি বালির দানার উপর জাতীয় পতাকা আঁকা। এবং গিনেস বুক অফ রেকর্ডসে নাম তোলা। আমি সেই লক্ষ্যে এখন নিয়মিত প্রস্তুতি নিচ্ছি।’ উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৫ আগস্ট অঙ্কুর সামন্ত দুর্গাপুর প্রেস ক্লাবের সামনে পোস্তদানার উপর রঙ-তুলি দিয়ে খালি চোখে জাতীয় পতাকা আঁকেন। এবং সেই ছবি ও খবর সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়।

অঙ্কুর সামন্ত আদপে বাঁকুড়ার ওন্দার বাসিন্দা। বাবা ঝড়েশ্বর সামন্তের পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে মাত্র দেড় বছর আগে। মা অনুভা সামন্ত দুই ছেলে অঙ্কুর ও অষ্টম শ্রেণির ছাত্র পৃথ্বিশকে নিয়ে থাকেন। ছেলের সাফল্যের খবর পেয়ে মা অনুভার চোখে খুশির অশ্রু ঝরে পড়ে। অনুভাদেবী বলেন, ‘ছোট থেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি অঙ্কুর আঁকিবুকি নিয়ে থাকত। কিন্তু কখনও ভাবিনি ছেলের সেই আঁকিবুকি এই খ্যাতি এনে দেবে।’ অনুভাদেবীর আক্ষেপ, যদি আজ অঙ্কুরের বাবা বেঁচে থাকতেন তাহলে ছেলের সাফল্যে তিনি আজ খুব খুশি হতেন।’


Like Us On Facebook