পুলিশ কুকুর নিয়ে তদন্ত

আউশগ্রামের দেবসালা পঞ্চায়েত প্রধানের ছেলে চঞ্চল বক্সিকে খুনের ঘটনায় সিআইডি তদন্তের দাবি জানালেন মৃতের ভাই রাহুল বক্সি। যদিও মঙ্গলবার এই খুনের ঘটনার পরই ঘটনার তদন্তে ঘটনাস্থল, বাড়ি ও পুলিশ মর্গে সিআইডির টিম হাজির হয়। বুধবার মৃতদেহের ময়না তদন্ত হল বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে। ঘটনাস্থল আউশগ্রাম ও বুদবুদ থানার সীমানাবর্তী এলাকা হওয়ায় এই খুনের ঘটনায় আউশগ্রাম থানা এবং বুদবুদ থানা উভয়েই পৃথকভাবে তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, পঞ্চায়েত প্রধান শ্যামল বক্সি ছেলে চঞ্চল বক্সিকে নিয়ে বাইকে করে যাওয়ার সময় তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি চালায় দষ্কৃতিরা। গুলিবিদ্ধ হন চঞ্চল বক্সি। জামতারা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে গেলে চিকিৎসক চঞ্চল বক্সিকে মৃত ঘোষণা করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আউসগ্রামের গ্যাড়াইয়ে আউসগ্রাম ২ ব্লক তৃণমূলের কার্যকরী সভাপতি সেখ আব্দুল লালনের বাড়িতে নিমন্ত্রণ খেয়ে দেবসালা পঞ্চায়েত অফিসে যাওয়ার সময় গ্যাড়াই ও ভাতকুণ্ডার মাঝে জঙ্গলে গুলিবিদ্ধ হন চঞ্চল। আউশগ্রাম থানার পুলিশ অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা শুরু করে তদন্ত শুরু করছে। গতকাল রাতেই পুলিশ কুকুর নিয়ে গিয়ে তদন্ত করে পুলিশ।

পরিবার ও তৃণমূলের অভিযোগ শ্যামলবাবু চোখে কম দেখতেন। পরিকল্পনা করে খুন করা হয়েছে। চঞ্চলকে লক্ষ্য করেই গুলি চালায় দুষ্কৃতিরা। তদন্তে নেমে তদন্তকারীদের অনুমান নিয়োগ করা হয়েছিলো সুপারি কিলার। তদন্তে নেমে তদন্তকারীরা একপ্রকার নিশ্চিত চঞ্চলই ছিল আততায়ীদের লক্ষ্য। না হলে তাঁর বাবাকে লক্ষ্য করে গুলি করলো না কেন দুষ্কৃতিরা? ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপান-উতর। তৃণমূলের আউশগ্রাম ২ নং ব্লকের সভাপতি রামকৃষ্ণ ঘোষের অভিযোগ, এলাকায় ভালো সংগঠক হিসাবে পরিচিত ছিল চঞ্চল বক্সি। তাঁর নেতৃত্বেই গত বিধানসভা নির্বাচনে দেবসালা অঞ্চল থেকে ব্যাপক জয় পায় তৃণমূল। তাই তাঁকে সরিয়ে দিতেই বিজেপি পরিকল্পিতভাবে এই খুন করিয়েছে। যদিও বিজেপি বর্ধমান সদর সাংগঠনিক জেলার সহসভাপতি রমন শর্মার দাবি, এটা তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল। এর সাথে বিজেপির কোন যোগ নেই।

Like Us On Facebook