বছর দেড়েক আগে পানাগড় সেনা ছাউনির জঙ্গলে ঢুকে পড়ার পর আর কোন খোঁজ মেলেনি হাতিটির। শেষমেশ সেনা ছাউনির ভিতর একটি পরিত্যক্ত কুয়ো থেকে উদ্ধার করা হলেও ঝাড়গ্রামের জঙ্গলে ছাড়ার জন্য নিয়ে যাওয়ার পথে বুধবার রাতেই হাতিটি মারা যায় বলে বন দফতর সূত্রে জানা গেছে।

জানা গেছে, বুধবার সকালে সেনা ছাউনির গভীর জঙ্গল থেকে হাতির চিৎকারের আওয়াজ আসতে থাকে। এরপরেই সেনা কর্মীরা গিয়ে দেখেন একটি পরিত্যক্ত কুয়োর মধ্যে একটি হাতি পড়ে রয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা বন দফতরে খবর দেন। বনকর্মীরা এসে দেখেন অন্তত ২৫ ফুট নীচে হাতিটি পড়ে রয়েছে। বন কর্মীরা হাতিটিকে ঘুমপাড়ানি গুলি ছুড়ে ট্রাঙ্কুলাইজ করে। হাতিটি ঘুমিয়ে পড়লে প্রায় ২০০০ কেজি ওজনের হাতিটিকে বেল্ট বেঁধে কুয়ো থেকে ক্রেনের সাহায্যে উপরে তোলা হয় এবং জঙ্গলে ছাড়ার জন্য বাঁকুড়া হয়ে ঝাড়গ্রামের উদ্দেশ্য ট্রাকে হাতিটিকে রওনা করিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু সন্ধ্যা গড়িয়ে রাতের অন্ধকার নামতেই বাঁকুড়ার রানীবাঁধের কাছে রাস্তায় হাতিটি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করে বলে বন দফতর সূত্রে জানা গেছে।

দুই বর্ধমান জেলার বন দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মুখ্য বনপাল কল্যাণ দাস বলেন, ‘বাঁকুড়া পার হয়ে রানীবাঁধের কাছে রাস্তায় হাতিটির মৃত্যু হয়েছে। কী কারণে হাতিটির মৃত্যু হল এখনই বলা সম্ভব নয়। ময়নাতদন্তের পর হাতিটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বোঝা যাবে। প্রায় ২০০০ কেজি ওজনের হাতিটি কুয়োর মধ্যে পড়ে যাওয়ার ফলে হাতিটির সারা শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল।’

উল্লেখ্য, বছর চল্লিশের এই পুরুষ হাতিটি ২০১৮ সালের ১৫ মার্চ দলমা থেকে দলছুট হয়ে সোনামুখী হয়ে দামোদর নদ পেরিয়ে পানাগড় সেনা ছাউনিতে ঢুকে পড়ে। কুনকি হাতি এনে অনেক চেষ্টা করেও সেনা ছাউনির জঙ্গল থেকে হাতিটিকে বের করা সম্ভব হয়নি। সেই হাতিটি বুধবার কুয়োর মধ্যে পড়ে গেলে ব্যাপক চিৎকার জুড়ে দিলে সেনা কর্মীরা বন দফতরে খবর দেন। বন দফতরের কর্মীরা এসে হাতিটিকে ট্রাঙ্কুলাইজ করে উদ্ধার করে জঙ্গলে ছাড়ার জন্য নিয়ে যাওয়ার পথে মৃত্যু হয় হাতিটির। দুর্বল শরীরে হাতিটি ঘুম পাড়ানি ইনজেকশনের ডোজ সহ্য করতে পারল না, নাকি কুয়োয় পড়ে যাওয়ার আঘাতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে হাতিটির মৃত্যু হল তা জানতে বন দফতর হাতিটির ময়নাতদন্ত করবে বলে জানা গেছে।

Like Us On Facebook