তিন বছর আগে বিদ্যুৎ অফিসে স্কুলে বিদ্যুতের জন্য আবেদন করেও বিদ্যুৎ সংযোগ মেলেনি। তীব্র গরমে নাজেহাল পড়ুয়া থেকে শিক্ষক সকলেই।বারবার আবেদন করেও কোনো ফল না হওয়ায় কচিকাঁচাদের নিয়েই এবার রাস্তায় নামলেন শিক্ষক থেকে অভিভাবকমহল। ঘটনাটি ঘটেছে বর্ধমানের শক্তিগড় এলাকায়। বিদ্যুতের দাবিতে বুধবার ক্ষুব্ধ শিক্ষক, গ্রামবাসী ও পড়ুয়ারা শক্তিগড়ের বিদ্যুৎ অফিসে বিক্ষোভও দেখালেন।

বছর তিনেক আগে বর্ধমানের করন্দা মিছরী ডাঙ্গা অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে স্কুলে বিদ্যুৎ সংযোগ চেয়ে আবেদন করা হয় স্থানীয় বিদ্যুৎ অফিসে। তারপর বারে বারে স্কুলের শিক্ষকরা বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য বিদ্যুৎ অফিসে যান। কিন্তু বাস্তবে স্কুলে বিদ্যুৎ সংযোগ মেলেনি।এদিকে, চলতি সময়ে গোটা জেলা জুড়েই চলছে দাবদাহ। তীব্র গরমের জেরে প্রায়ই আদিবাসী অধ্যুষিত এই প্রাথমিক স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা অসুস্থও হয়ে পড়তে শুরু করেছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক দেবোত্তম বসু জানিয়েছেন, ২০০১ সালে এই স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, ২০১৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর স্কুলের বিদ্যুতের জন্য শক্তিগড় ইলেকট্রিক সাপ্লাই দপ্তরে আবেদন জানানো হয়। কিন্তু তারপর তাদের কেবলই জুটেছে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি। আর চলতি সময়ে তীব্র গরমের জন্য ছাত্রছাত্রীদের অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাঁরা বাধ্য হয়েছেন বিক্ষোভের পথে হাঁটতে।

এদিন রীতিমত প্লাকার্ড হাতে পড়ুয়ারা বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে বিক্ষোভ দেখায়। পড়ুয়াদের বিক্ষোভে সামিল হন স্কুলের শিক্ষক থেকে গ্রামবাসী সকলেই।গ্রামবাসী তথা স্কুলের অভিভাবক সন্ধ্যা টুডু, সুনীল মূর্মূ প্রমুখরা জানিয়েছেন, মাঝে মাঝেই ছেলেমেয়েরা গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। তখন তাদেরই ছুটে আসতে হচ্ছে স্কুলে। অবিলম্বে স্কুলে বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা না হলে স্কুলের পঠনপাঠনই লাটে ওঠার উপক্রম হয়েছে। স্কুলের ছাত্রছাত্রী রাহুল মূর্মূ, মধুমিতা মূর্মূ, রাখি বেসরারা জানিয়েছে, তাদের চরম কষ্ট হচ্ছে এই তীব্র গরমে। গরমের জেরে মাথা ঘুরছে। অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এদিকে, বুধবার বিক্ষোভের জেরে শক্তিগড় বিদ্যুত দপ্তরের আধিকারিক সুরেশ রাও স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের অসুবিধার কথা স্বীকার করে নিয়েই জানিয়েছেন, যত দ্রুত সম্ভব ওই স্কুলে বিদ্যুৎ সংযোগের চেষ্টা করছেন তাঁরা।