“If one day the #speed kills me, do not cry, because I was smiling.” – PAUL WALKER – এটাই ছিল তাঁর ফেসবুক পেজের শেষ স্টেটাস আপডেট। বিক্রম হাজরা ও রিয়া চক্রবর্তী শুক্রবার ভোরে বাইকে করে উত্তর প্রদেশের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। বিক্রমের উদ্দেশ্য ছিল ২৪ ঘন্টায় ১৬০০ কিমি পাড়ি দিয়ে তাঁর ক্লাবের দেওয়া চ্যালেঞ্জ শেষ করা। গতির চ্যালেঞ্জ নিতে গিয়ে গতির বলি হলেন বিক্রম ও রিয়া। শনিবার কাকভোরে বর্ধমানের গলসির কাছে এক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় বিক্রম ও রিয়ার।
মৃতদের পরিবারের অভিযোগ, ওই ক্লাব থেকেই দেওয়া হত নানা ধরনের টার্গেট, আর সেই টার্গেটই পূরণ করতে হত সদস্যদের। সেই টার্গেটে থাকত কখনও ২৪ ঘন্টায় ১৬০০ কিমি পাড়ি দেওয়া তো কখনও থাকতো ঘন্টায় ১০০ কিমি দূরত্ব অতিক্রম। শুধু তাই নয় টার্গেট অ্যাচিভ করার ছবিও আপডেট করতে হত গ্রুপে। আর এত কিছুর পর জুটত শুধু আত্মতুষ্টি। কখনও টার্গেট এলাকার পেট্রলের বিল তো কখনও সেখানকার সেলফি এই ছিল পুরস্কার।
শুক্রবার ভোরে বাড়ি থেকে বের হন বিক্রম হাজরা ও তাঁর বান্ধবী রিয়া চক্রবর্তী। যাবার আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় রাত্রি ১.৫০ মিনিটে মৃত যুবক বিক্রম হাজরা পল ওয়াকারের এই উক্তি পোস্ট করেন – “যদি কোনোদিন গতি কেড়ে নেয় আমার জীবন, কেঁদো না কারণ আমি হাসছি”। তারপরেই ভোরে বাড়ি থেকে বের হন তিনি তাঁর বান্ধবী রিয়া চক্রবর্তীকে নিয়ে। নির্দিষ্ট টার্গেট অনুযায়ী সময়ের আগেই ফিরেও যেতেন তাঁরা। কিন্তু এবার বাইকের গতির কাছে থেমে গেলো তাঁদের জীবনের গতি। এক দুর্ঘটনা কেড়ে নিল তাঁদের জীবন। মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বর্ধমানের ২ নম্বর জাতীয় সড়কের গলসি বাজারে। মৃত তরুণের নাম বিক্রম হাজরা। বাড়ি বর্ধমানের পল্লীমঙ্গল এলাকায়। অন্যদিকে মৃত তরুণীর নাম রিয়া চক্রবর্তী। বাড়ি বর্ধমানের নীলপুরের আমবাগানে। বিক্রম রাজ কলেজের এবং রিয়া বিবেকানন্দ কলেজের পড়ুয়া ছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বিক্রম ও তাঁর বান্ধবী রিয়া বর্ধমান থেকে দামী মোটরবাইক নিয়ে বেনারস যান। তাঁদের নেশা ছিল স্পিড বাইকিং। শনিবার তাঁরা বেনারস থেকে বর্ধমান ফিরছিলেন। তাঁদের লক্ষ্য ছিল ১৬০০ কিলোমিটার রাস্তা ২৪ ঘন্টায় পার হওয়ার। শনিবার ভোরে বিক্রম দ্রুত গতিতে বাইক নিয়ে গলসি বাজারে চলমান একটি লরির পিছনে ধাক্কা মারে। পিছনে ছিলেন প্রেমিকা রিয়া। দুজনেই মারাত্মক জখম হন। গলসি থানার পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসকরা তাদের মৃত বলে জানান। এর পরই রোষে ফেটে পড়েন পরিবারের সদস্য ও এলাকার বাসিন্দারা। তাঁরা ওই ক্লাবের এক কর্তাকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখান। পরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে। রিয়া বাইক চালাতে জানতেন না। তবে বিক্রম ছিলেন স্পিড বাইকিং-এ পটু।







