আউসগ্রামের তৃণমূল নেতা চঞ্চল বক্সী খুনের ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হল আউশগ্রাম থানার পক্ষ থেকে। আউসগ্রামে তৃণমূল নেতা খুনে গ্রেফতার করা হয় দুই সুপারি কিলারকে। ধৃত শেখ শের আলি ও ইমরান কুরেশিকে নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হয়। তৃণমূল নেতা চঞ্চল বক্সী খুনের ঘটনায় ঘটনার মূল চক্রী ধৃত আসানুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সুপারি কিলার দিয়ে খুন করার কথা জানতে পারে পুলিশ। তাঁদের ঝাড়খণ্ড লাগোয়া সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তারপরই তাঁদের পুলিশি হেফাজত চেয়ে বর্ধমান আদালতে তোলা হয়। পুলিশি হেফাজত পাওয়ার পর আজ তাঁদের নিয়ে গ্যারাই ও ভাতকুন্ডার জঙ্গলের মাঝে ঘটনাস্থলে পৌছায় আউশগ্রাম থানার পুলিশ। এরপর ধৃত শেখ শের আলি ও ইমরান কুরেশী কিভাবে চঞ্চল বক্সীকে খুন করে কোন রাস্তা দিয়ে পালায় তার সমগ্র বর্ণনা দেয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শেখ শের আলি ও ইমরান কুরেশীর সঙ্গে খুনের মূল চক্রী আসানুলের ৬ লক্ষ টাকায় রফা হয়। দু’দফায় ৭৪ হাজার টাকা দেওয়া হয়। চুক্তির সময় ২৪ হাজার টাকা অগ্রিম দেওয়া হয়। খুনের পরের দিন ৫০ হাজার টাকা পৌঁছে দেওয়া হয়। আউসগ্রামের দেবশালা অঞ্চলের তৃণমূল নেতা চঞ্চল বক্সী খুনে আগেই গ্রেফতার হন তৃণমুলের দুই পঞ্চায়েত সদস্য আসানুল মণ্ডল, মনির হোসেন মোল্লা সহ দুই তৃণমূল কর্মী। ঝাড়খণ্ড থেকে গ্রেফতার হয় দুই অস্ত্র কারবারিও।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আসানুল জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে শের আলিকেই সুপারি দেওয়া হয় চঞ্চল বক্সীকে খুনের। শের আলি দেবশালা এলাকায় প্রায়ই আসতো। ফলে একদিকে যেমন এলাকার রাস্তাঘাটও চিনতো তেমনই চঞ্চল বক্সীকেও চিনতো। পুলিশের দাবি, জেরায় শের আলি স্বীকার করে খুনের দিন ধৃত ইমরান কুরেশির বাইকে চেপে এসে চঞ্চল বক্সীকে গুলি করে খুন করে। খুন করে পালানোর সময় আত্মগোপনের উদ্দেশ্যে গায়ের জামা খুলে ফেলে দেয় ধৃত। এমনকি জামা খুলে ফেলার সময় সঙ্গে থাকা আগ্নেয়াস্ত্রটিও রাস্তায় পড়ে যায়। ঘটনার দিনই পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে জামা ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে। ৭ সেপ্টেম্বর দুপুরে দুষ্কৃতীদের গুলিতে নিহত হন দেবশালা পঞ্চায়েত প্রধানের ছেলে তথা তৃণমূল নেতা চঞ্চল বক্সী। ঘটনার তদন্তে নেমে এখনও পর্যন্ত ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

Like Us On Facebook