দ্বিতীয় বিয়ে জানার পরেও স্বামীর বাড়িতে গিয়ে সতীনের সঙ্গে ঘর করতে চাওয়াই কি কাল হল অন্ডালের আইভির? পুলিশী জেরায় সেটাই স্বীকার করেছে আইভির একসময়ের কম্পিউটার শিক্ষক দোজবরে স্বামী বিক্রম। শুধু পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি নয়, যে মেয়েকে মন্দিরে নিয়ে দেবতাকে সাক্ষী রেখে বিয়ে করে স্ত্রীর মর্যাদা দিয়েছিল, সেই স্ত্রীকেই কিভাবে নিজের হাতে খুন করেছিল শুক্রবার তাঁর পুরো বর্ণনা দেয় বিক্রম। শুক্রবার বিক্রমকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করে অন্ডাল থানার পুলিশ।

শুক্রবার দুপুর ৩টে, পুলিশ বিক্রমকে সঙ্গে নিয়ে পৌঁছয় উখরার সুভাষ পাড়ায় বিক্রমের বাড়িতে। সেখানে সে পুলিশকে জানায়, আইভিকে খুন করার সময় যে জামাটা পড়েছিল সেই জামাটা সে কোথায় লুকিয়ে রেখেছে। বিক্রমের বয়ান অনুযায়ী তাঁকে নিয়ে পুলিশ যায় উখরার আনন্দ মোড়ের অবিচল শ্মশানে। সেখান থেকে উদ্ধার হয় রক্তমাখা জামাটি। এরপর বিকেল ৫টা নাগাদ বিক্রমকে নিয়ে পুলিশ কাজোড়ায় বিক্রমের দ্বিতীয় স্ত্রী মৃতা আইভির বাড়িতে যায়। সেখানে যাওয়ার পর বিক্রম জানায় ঘটনার দিনে ধাপে ধাপে কিভাবে সে আইভিকে খুন করে।

সে জানায়, ঘটনার দিন বিকেল ৪টে নাগাদ আইভির বাড়িতে যায় বিক্রম। সোজা চলে যায় বাড়ির দোতলাতে। প্রথমেই দেখা হয় আইভির ঠাকুরমা মায়ারানী হাজরার সাথে। তাঁকে প্রণাম করে বিক্রম। এরপর সে বাথরুমে যায়। বাথরুম থেকে বেরোনোর পর আইভির সাথে বচসায় জড়িয়ে পরে বিক্রম। আইভির একমাত্র দাবি বিক্রমের কাছে যে তাঁকে যেন বিক্রম নিজের বাড়িতে নিয়ে যায়। কারণ সে আর নিজের বাড়িতে নয় বিক্রমের সাথে তাঁর বাড়িতে থেকে সংসার করতে চায়। কিন্তু তাতেই ঘোরতর আপত্তি দোজবরে বিক্রমের।

আইভির থেকে এবার মুক্তি পেতে চাইছিল বিক্রম। তাঁর ওপর আইভির স্বামীর সঙ্গে সংসার করতে চাওয়ার বায়নার চাপ। সব মিলিয়ে মেজাজ হারায় বিক্রম। এদিকে আইভি আর বিক্রমের কথা কাটাকাটির আওয়াজ গিয়ে পৌঁছোয় ঠাকুরমা মায়ারানীদেবীর কানে। তিনি এসে নাতজামাই ও নাতনিকে শান্ত করতে গেলে ক্ষিপ্ত বিক্রম হাতের কাছে পরে থাকা একটি কাঠের টুকরো তুলে নিয়ে মায়ারানীদেবীর মাথায় সজোরে আঘাত করে। এতে জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে পরে যান তিনি। এরপর সেই কাঠ দিয়ে আইভিকেও মারধর শুরু করে বিক্রম। কাঠের আঘাতে মাথায় চোট পায় আইভি আর তাতে জ্ঞান হারায় সেও। আইভির পা ধরে বিক্রম টানতে টানতে এরপর দোতলা থেকে নীচের তলায় নিয়ে যায়। আইভির মাথা থেকে তখন রক্তক্ষরণের কারনে পুরো সিঁড়িতে রক্তের দাগও লেগে যায়। এরপর আইভিকে বিছানার উপর শুয়ে একটি ধারালো ছুরি দিয়ে কোপাতে শুরু করে সে। এতেও ক্ষান্ত হয় না বিক্রম। মৃত্যু পুরোপুরি নিশ্চিত করতে এরপর আইভির শরীরে পেট্রোল ঢেলে তাতে আগুন লাগিয়ে দেয়। এরপর বিক্রমের কাজের একমাত্র সাক্ষী আইভির ঠাকুরমাকে দেখতে দোতলায় ফের যায় বিক্রম। তখনও সংজ্ঞাহীন মায়ারানীদেবীকে দেখে বিক্রম ভাবে যে ঠাকুরমারও মৃত্যু হয়েছে। এরপরেই সে আইভির বাড়ি থেকে বেরিয়ে সোজা চলে যায় অবিচল শ্মশানে। সেখানে জামাটি খুলে লুকিয়ে রেখে ফিরে যায় নিজের বাড়িতে।

শুক্রবার সেই সব বিষয়ের পুনর্নির্মাণ করতে অন্ডাল থানার পুলিশ কাজোড়ায় ঘটনাস্থলে নিয়ে এলে উত্তেজিত এলাকাবাসীরা খুনী বিক্রমের ফাঁসির সাজা দাবি করেন ও উত্তেজিত হয়ে বিক্রমকে মারধর করার চেষ্টাও করেন কিন্তু পুলিশ কোনক্রমে বিক্রমকে নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করে সেখান থেকে থানায় নিয়ে আসে।

Like Us On Facebook