বর্ধমানে নকল ঘি তৈরির একটি চক্রের হদিশ পেল দুর্নীতিদমন শাখা। বর্ধমান শহরের মালিরবাগান মাঠপাড়া এলাকায় পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে দুর্নীতিদমন শাখার আধিকারিকরা একটি বাড়িতে হানা দিয়ে প্রচুর পরিমাণে নকল ঘি তৈরির উপকরণ উদ্ধার করল। অবৈধ এই কারবারের সঙ্গে যুক্ত সন্দেহে দু’জনকে আটকের পাশাপাশি পুলিশ মাল বহনকারী তিনটি গাড়িকেও বাজেয়াপ্ত করেছে।

বিশেষ সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ ও দুর্নীতিদমন শাখার অফিসাররা সোমবার মালিরবাগান মাঠপাড়া এলাকায় অভিযান চালায়। খবর ছিল, একটি বাড়িতে মিষ্টির রসের গাদ থেকে নকল ঘি তৈরি করে বিভিন্ন নামীদামী কোম্পানীর মোড়কে তা সরবরাহ করা হচ্ছে। এমনকি এখানে তৈরি করা হচ্ছিল চকোলেটও। এদিন ডিএসপি হেড কোয়ার্টার সৌভিক পাত্রের নেতৃত্বে জেলা পুলিশের একটি বাহিনী ওই বাড়িতে হানা দেয়।

পুলিশ ওই বাড়ি থেকে ঘি তৈরির যাবতীয় কাঁচা মাল, উপকরণ সহ চকলেট তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করেছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি এই কারবারের সঙ্গে যুক্ত সন্দেহে দু’জন ব্যক্তিকে আটক করেছে। উৎপাদিত ঘি এবং চকলেট বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যাওয়ার জন্য রাখা তিনটি গাড়িও আটক করেছে পুলিশ। সৌভিক পাত্র জানিয়েছেন, এই কারবারের সঙ্গে কারা যুক্ত, কোথায় কোথায় এই মাল সরবরাহ হতো ইত্যাদি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মহিন খান, শেখ রফিকরা জানাচ্ছেন, আগে এই কারবার চলতো রেলওয়ে ওভারব্রিজের নীচে। কিন্তু রেল সকলকে উচ্ছেদ করে দেওয়ার পর বছর দেড়েক ধরে এখানে এই অবৈধ কারবার চলছে। এখানে প্রত্যেক দিন ছোট ছোট গাড়িতে টিন ও জার আনা হতো এবং নিয়ে যাওয়া হতো। এই বিষয়ে জিঞ্জাসা করলে বলা হতো গরুর খাবারের জন্য চিটে গুড় তৈরি করা হচ্ছে। এই কারখানা থেকে সারাদিন বিকট গন্ধ ছড়াতো, এতে আশপাশের সবাইকার অসুবিধা হতো। কিন্তু এদের বললেও শুনতো না। জানা গেছে, কারখানার জায়গাটি সাহানা বেগম নামে এক মহিলার। তিনি অনিল সাউ ও ভরতপ্রসাদ সাউকে কারখানা চালানোর জন্য ভাড়া দিয়েছিলেন।



Like Us On Facebook