ঝড়বৃষ্টি কিংবা ভূমিকম্পের পর এবার বজ্রপাতেরও প্রায় ঘন্টা দেড়েক আগে মিলতে চলেছে পূর্বাভাস। গোটা রাজ্যজুড়ে বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা নেহাত কম নয়। এই মৃত্যুর হার কমাতেই রাজ্য সরকারের বিপর্যয় ব্যবস্থাপণ দপ্তরের পক্ষ থেকে বিদেশি সংস্থার সহযোগিতায় রাজ্যের আট জেলায় বসছে বজ্র সংকেত ডিভাইস।

এই ডিভাইসের সেন্সর বজ্রপাতের প্রায় দেড় ঘন্টা আগে বজ্রপাতের সম্বাভনা ডিটেক্ট করে সংকেত প্রথমে আমেরিকায় পাঠাবে সেখান থেকে সেই সংকেত সরাসরি চলে আসবে রাজ্যের প্রধান প্রশাসনিক দপ্তর নবান্নে। সেখান থেকে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন ও পঞ্চায়েতকে সতর্কিত করা হবে। ফলে প্রাণহানির শঙ্কা অনেকটাই কমবে বলে মনে করছে বিপর্যয় ব্যবস্থাপণ দপ্তর। প্রাথমিক ভাবে এক একটি ডিভাইস বসাতে খরচ হবে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা করে। একটি ডিভাইস প্রায় চারশো কিমি রেডিয়াস জুড়ে কাজ করতে পারবে তাই প্রতিটি জেলায় এই ডিভাইস না বসলেও অন্য জেলায় বসা ডিভাসের সঙ্গে তারা সংযুক্ত থাকবে। ইতিমধ্যেই মুর্শিদাবাদ ও পুরুলিয়ায় বসেছে এই ধরনের ডিভাইস।

পূর্ব বর্ধমান জেলা বিপর্যয় ব্যবস্থাপণ দপ্তরের আধিকারিক মনোজ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, পূর্বে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময় শুধুমাত্র চাল, গম বিলি করাই ছিল এই দপ্তরের কাজ। কিন্তু বর্তমান সরকারের সময়ে এই দপ্তরের কাজ অভূতপূর্ব ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। চাল, গম বিলির বাইরেও যে এই দপ্তরের একাধিক কাজ আছে তা আজ প্রমাণিত। বিপদের সময় মানুষের প্রাণ বাঁচানোর কাজও করে চলেছে এই দপ্তর। তারই নবতম সংযোজন এই ডিভাইস, যা পূর্বেই মানুষকে বিপদ সম্পর্কে সচেতন করে দেবে। ফলে কমবে প্রাণহানি।

Like Us On Facebook