অবাক লাগলেও বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৪০ বছর আগে আসা বর্ধমান শহরের মেহেদিবাগান এলাকার দে পরিবারে এই কালীপুজোর দিন ভরাভর্তি অমাবস্যাতেই পূজিতা হন দেবী লক্ষ্মী। একেবারেই পারিবারিক পুজো হলেও দে পরিবারের এই কালীপূজোর দিন লক্ষ্মীপুজোর এই ঘটনায় গোটা এলাকার মানুষই তাতে নিমন্ত্রিত হন। দে পরিবারের গৃহবধু পুষ্পরাণী দে জানান, চলতি বছরে ৩৩ বছরে পা দিল তাদের পারিবারিক এই লক্ষ্মীপুজো। তিনি জানান, আজ থেকে প্রায় ৪০ বছর আগে বাংলাদেশ থেকে বর্ধমানে এসে একেবারেই ছোট একটি ব্যবসা শুরু করেন রবীন্দ্রনাথ দে। এরপর তাঁদের বাংলাদেশের পারিবারিক ঐতিহ্য মেনেই বর্ধমানের বাড়িতে শুরু করেন এই লক্ষ্মীপুজো। বাংলাদেশের খুলনার বাড়িতে কালীপুজোর দিন অমাবস্যাতেই লক্ষ্মীপুজোর চল রয়েছে। সেই সূত্র ধরেই বর্ধমানের বাড়িতে এই পুজোর প্রচলন শুরু হয়।

দুর্গাপুজোর পর কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর আদলেই এই অমাবস্যা তিথিতে লক্ষ্মীপুজো হয় দে পরিবারে। পুষ্পরাণী দে জানান, পুজোর বিশেষত্বের মধ্যে রয়েছে সন্ধ্যায় মাটি অথবা মাটির অভাবে ময়দা দিয়ে তৈরী করা হয় অলক্ষ্মীর মূর্তি। প্রথমে বাড়ির বাইরে সেই অলক্ষ্মীর পুজো হয়। পুজোর পর তা বিসর্জনের পর বাড়িতে আবাহন করা হয় মা লক্ষ্মীর। চিড়ে, খই, মুড়কি, বাতাসার সঙ্গে অবশ্যই থাকে নাড়ু। পুজো উপলক্ষ্যে গোটা এলাকার প্রায় পাঁচশো মানুষকে খাওয়ানোরও রেওয়াজ চলে আসছে।

Like Us On Facebook