জিএসটি বিতর্কের মাঝেই এবার জিএসটি নিয়ে চরম সংঙ্কটে বন্যা বিধ্বস্ত প্রায় কুড়ি হাজার পরিবারের তিন হাজার শিশু। পূর্ব বর্ধমানের রায়না ২ ও জামালপুর ব্লকের বন্যা পরিস্থিতি এখনও অব্যহত। বহু গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। উদ্ধারকার্যে নামানো হয়েছে এনডিআরএফ ও এসডিআরএফ বাহিনীকে। এখনও পর্যন্ত ৭৪৫০ জনকে উদ্ধার করে রাখা হয়েছে বিভিন্ন ত্রাণ শিবিরে। শুধুমাত্র এই দুটি ব্লকেই খোলা হয়েছে ৩১ টি ত্রাণ শিবির। তবে ত্রাণ শিবির গুলিতে শুকনো খাবার পৌঁছালেও বাজারে অমিল হওয়ার জন্য পৌঁছানো যাচ্ছে না বেবিফুড।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে জিএসটির প্রভাবেই বাজারে অমিল বেবিফুড। তাই কোলকাতা থেকে অর্ডার দিয়ে দ্রুত আনানো হচ্ছে বেবিফুড। আর বেবি ফুড অমিল হওয়ায় চরম সঙ্কটে পড়েছেন বন্যায় আটকে পড়া ২৪ টি গ্রামের প্রায় তিন হাজার শিশু। শুধুমাত্র জামালপুর ব্লকেই বিভিন্ন ত্রাণ শিবিরে পরিবারের সঙ্গে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় হাজারখানেক শিশু। চরম সঙ্কটে তারাও। জামালপুরের বিডিও সুব্রত মল্লিক জানিয়েছেন প্লাবিত এলাকাগুলিতে ত্রাণ পাঠানোর জন্য অন্যান্য সামগ্রীর সাথে আমরা দেড় হাজার প্যাকেট বেবি ফুডও চেয়ে পাঠাই জেলা প্রাশাসনের কাছে। কিন্তু অনান্য সামগ্রী পাওয়া গেলেও বেবিফুড পাওয়া যায়নি। জেলার তরফে জানানো হয় জিএসটির কারনেই বাজারে অমিল বেবিফুড তাই বাধ্য হয়ে আমরা বিকল্প হিসাবে মিডডে মিলের খাবার দিচ্ছি। কিন্তু যে সমস্ত বাচ্চারা বেবিফুডে অভ্যস্ত তারা এই খাবার মুখে তুলতে চাইছে না।

জামালপুরের ফতেপুর গ্রাম কয়েকদিন ধরে জলের তলায়। এই গ্রামেরই বাসিন্দা রিয়া মাল জানিয়েছেন, চরম দূরাবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন তারা। সবথেকে অসুবিধায় পড়েছেন কোলের বাচ্চা টিকে নিয়ে। কিছু খাবার পাচ্ছেন না কি খাওয়াবেন তাকে কিছু বুঝতে পারছেন না। পার্টির লোককে জানালে বলে বেবিফুড পাওয়া যাচ্ছে না জিএসটির কারণে। বাধ্য হয়ে ডাল ভাত বেটে ছাকনি দিয়ে ছেকে খাওয়াচ্ছি।

Like Us On Facebook