বুধবার ট্রাডিশান বজায় রেখেই শেষে পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের যোগ দিলেন বর্ধমানের একদা সিপিএমের দোর্দন্ড প্রতাপ নেতা আইনুল হক। এদিন কলকাতায় তৃণমূল ভবনে তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের হাত ধরে গত প্রায় কয়েকবছর ধরে চলে আসা জল্পনার অবসান ঘটালেন আইনুল হক। যোগ দেওয়ার পর আইনুলবাবু জানিয়েছেন, তিনি বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন ঠিকই। কিন্তু ওঁদের সঙ্গে খাপ খায়নি তাঁর। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে ভয়ঙ্কর বিপদ ডেকে আনছে বিজেপি – তা তিনি মানতে পারেননি। আর তাই দেশের অখণ্ডতা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের ডাক তিনি উপেক্ষা করতে পারেননি। তাঁর ডাক পেয়েই তিনি আলোচনা করেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, মলয় ঘটকের পাশাপাশি সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। আর তার পরেই বুধবার তৃণমূল ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি যোগ দিলেন। তিনি জানিয়েছেন, তিনি পদের জন্য তৃণমূলে যাননি। দল যা দায়িত্ব দেবে তিনি পালন করবেন।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে সিপিএম থেকে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়। সিপিএম সংস্রব ত্যাগ করার পর তিনি বেশ কিছুদিন চুপ ছিলেন। এরপর ২০১৯ সালের ২৩ মার্চ বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের হাত ধরে কলকাতায় বিজেপিতে যোগ দেন। সাম্প্রতিককালে বিজেপির পৌর নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে রাজ্য কমিটির ৫৭ জন সদস্যের মধ্যে তাঁকেও রাখা হয়। যদিও তিনি জানিয়েছেন, ওই কমিটির কোনো মিটিংয়েই তিনি যাননি। ট্রাডিশান বজায় রেখেই এদিনও তিনি কলকাতাতেই তৃণমূলের রাজ্য সদর দফতরে গিয়ে দলে যোগ দিয়ে নিজের গুরুত্ব বুঝিয়ে দিলেন। কারণ গত প্রায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি তৃণমূলে যোগ দিচ্ছেন বলে বাজারে রটলেও বুধবারই যে তিনি যোগ দিচ্ছেন এদিন সকাল পর্যন্তও জেলার তৃণমূল নেতাদের কাছে কোনো খবর ছিল না। কার্যত জেলা নেতাদের মধ্যে রীতিমত জল্পনা শুরু হওয়ার মাঝেই এদিন তিনি তৃণমূলে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিলেন।

Like Us On Facebook