চরম শীতকে উপেক্ষা করেই দুমুঠো ভাতের আশায় কাঁকসার আশি ছুঁই ছুঁই বৃদ্ধা কিরণ বালা দাস নিয়ম করে বিডিও অফিসে ঢুঁ মারেন। দু’বছর আগে বার্ধক্য ভাতার আবেদন করেছিলেন কাঁকসার তিন নম্বর কলোনির বাসিন্দা হতদরিদ্র কিরণ বালা দাস। কিন্তু দু’বছর কেটে গেলেও বার্ধক্য ভাতার এখনো পর্যন্ত অনুমোদন মেলেনি বলে অভিযোগ কিরণ বালা দাসের। অর্ধাহারে অনাহারে রয়েছেন কাঁকসার এই বৃদ্ধা। শরীর অচল। কিন্তু মানসিক শক্তিকে ভর করেই এখনও পর্যন্ত নিয়মিত কাঁকসা ব্লক উন্নয়ন দপ্তরে যান বার্ধক্য ভাতার খোঁজ নিতে। অনেকে এতে বিরক্ত হলেও সরকার থেকে দেওয়া ভাতায় শেষ জীবনটা দুমুঠো খেয়ে বাঁচার আশায় ভগ্ন শরীরে এখন দিন গুণছেন কাঁকসার আশি ছুঁই ছুঁই কিরণ বালা দেবী।

কিরণ বালা দাস বলেন, এখন শরীর অচল। কাজ করতে পারি না। তাই রুটি রুজি বন্ধ। পড়শীরাও আমার পাশে না দাঁড়ানোয় এখন দু’মুঠো খেতেও পাই না সবদিন। আমার মেয়ে পরের বাড়িতে কাজ করে যা রোজগার করে তাতে ওষুধ পত্তর কিনে, কোনরকমে খাওয়া দাওয়া করে খুব কষ্টে আমরা লড়াই করে বেঁচে আছি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কিরণ বালা দাসের পাঁচ মেয়ে। তাঁদের মধ্যে চার জনের বিয়ে হয়ে গেছে। তাঁরাও খুব কষ্টে দিন অতিবাহিত করেন। এক মেয়ে বিয়ে না করে মায়ের সঙ্গেই থাকেন। তিনিই এখন একমাত্র ভরসা কিরণ বালার। কিরণ বালা দেবীর অভিযোগ, বার বার আবেদন করেও বার্ধক্য ভাতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি আমি কেবলমাত্র প্রশাসনিক উদাসীনতায়।

কাঁকসার বিডিও অরবিন্দ বিশ্বাস কিরণ বালা দাসের অভিযোগ নস‍্যাৎ করে দিয়ে বলেন, কিরণ বালা দাসের করুণ অবস্থা দেখে আমি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার জন্য দেরি হচ্ছে কিরণ বালা দেবীর বার্ধক্য ভাতার অনুমোদনে। প্রশাসনের তরফে শনিবার কিরণ বালা দেবীকে কিছু আর্থিক সাহায্য করা হয় বলে জানান কাঁকসার বিডিও অরবিন্দ বিশ্বাস।

Like Us On Facebook