৪ দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই। তীব্র গরমে বর্ধমান শহর লাগোয়া বামচাঁদাইপুর এলাকায় দুটি স্কুল এবং একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র গত ৪ দিন ধরে বিদ্যুৎহীন থাকায় তীব্র সমস্যায় পড়েছেন এলাকার মানুষ থেকে ছাত্রছাত্রীরা। স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের হাত পাখা দিয়ে হাওয়া করেও প্রচন্ড গরমে অসুস্থতার হাত থেকে
রক্ষা করা যাচ্ছে না। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলাপ্রশাসন এগিয়ে এলেও বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কোনো সুরাহা মেলেনি।

বর্ধমান ২নং ব্লকের বামচাঁদাইপুর নিম্ন প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বামচাঁদাইপুর গার্লস স্কুল এবং এরই লাগোয়া বামচাঁদাইপুর উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে গত ৪ দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই। বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার পুড়ে যাওয়ায় তা বদলানো হয়নি। বিদ্যুৎ না থাকায় গোটা এলাকার সাধারণ জনজীবনেও নেমে এসেছে চরম সমস্যা। অথচ স্কুলের শিক্ষক, অভিভাবক থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন বারবার এব্যাপারে বড়শুল ইলেকট্রিক সাপ্লাই দপ্তরে জানিয়েও কোন ফল মেলেনি।

বামচাঁদাইপুর নিম্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কুন্তল কোনার জানান, ৪ দিন ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় চরম সমস্যা তৈরে হয়েছে। সম্প্রতি তীব্র গরমের জেরে প্রতিদিন ছাত্রছাত্রীরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। আবার যেহেতু স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রেও বিদ্যুৎ নেই তাই অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত চিকিৎসাও দেওয়া যাচ্ছে না অসুস্থ ছাত্রছাত্রীদের। তিনি জানান, ইতিমধ্যেই প্রায় ২০ জন ছাত্রছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। আতঙ্কে স্কুলের হাজিরাও অনেকটাই কমে গেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাতপাখা নিয়ে আসা হয়েছে। শিক্ষক শিক্ষিকারাই হাত পাখা দিয়ে হাওয়া করছেন ছাত্রাছাত্রীদের। বিশেষ করে তীব্র গরমে মিড ডে মিল খাওয়ার সময় পরিস্থিতি আরও সংকটজনক হয়ে উঠছে। সেই সময় শিক্ষক শিক্ষিকাদেরই পালা করে ছাত্রছাত্রীদের হাওয়া করতে হচ্ছে। এরই পাশাপাশি ক্লাসে বসে না থাকতে পারায় ক্লাসের বাইরে গাছের নিচে বসে ক্লাস নিতে হচ্ছে।

স্থানীয় গ্রামবাসী রফিকুল সেখ জানান, ৭ দিন ধরেই ট্রান্সফরমারের গোলমাল শুরু হয়েছিল। এরপর গত ৪ দিন আগে ট্রান্সফরমারটি পুড়ে যায়। এ ব্যাপারে তারা বড়শুল ইলেকট্রিক সাপ্লাইয়ের এসএস-এর সঙ্গে যোগাযোগও করেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোন কাজ হয় নি।

অন্যদিকে, এই ঘটনা সম্পর্কে বর্ধমানের অতিরিক্ত জেলাশাসক (উন্নয়ন) রত্নেশ্বর রায় জানান, গোটা বিষয়টি তিনি শুনেছেন। দ্রুত বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক করার জন্য বিডিওকে জানানো হয়েছে।

Like Us On Facebook