পুলিশ, প্রশাসন কিংবা বিএলআরও দপ্তরকে এড়িয়ে প্রতিদিনের মতই বৃহস্পতিবার ভোরে গলসি থানার লোয়া রামগোপালপুর পঞ্চায়েতের শিল্যাঘাট থেকে অবৈধভাবে বালি নিয়ে যাওয়ার সময় ট্রাক্টর উলটে মৃত্যু হল দুই ব্যক্তির। মৃতদের নাম অজিত ওরফে গেঁড়া বাগদি (৩২) ও নিমাই বাগদি (২১)। বাড়ি গলসি থানার কোমরপুকুর গ্রামে। এই ঘটনার পর গোটা এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

যদিও এই ঘটনার সঙ্গে বালি নিয়ে যাবার কোনো কারণ নেই বলে দাবি করেছেন মৃতের আত্মীয়রা। অজিত বাগদির ভাগ্নে দেবাশীষ বাগদি জানিয়েছেন, ভোরে মাঠে পায়খানা করতে গিয়েছিলেন দুজনে। সেইসময় আচমকাই উল্টে যায় ওই ট্রাক্টরের ইঞ্জিন। একইকথা বলেছেন নিমাই বাগদির কাকা কল্যাণ বাগদিও। গ্রামবাসীরা মৃতদেহ আটকে বিক্ষোভও দেখান। পরে গলসি থানা থেকে পুলিশ গিয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করে নিয়ে আসে।

গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, নিমাই ও গেঁড়া দুজনেই কার্তিক গুপ্ত নামে এক ব্যাক্তির অধীনে বালি কাটার কাজ করে। প্রতিদিনই ভোরে তারা এইভাবেই বালি নিয়ে স্থানীয় এলাকায় সরবরাহ করে। যেহেতু ভোরের দিকে বালি ঘাটের জন্য কোনো পাহারা থাকে না, সেই সুযোগেই এই কারবার চালানো হয় বলে গ্রামবাসীরা অভিযোগ করেছেন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার ভোরে অন্যান্যদিনের মতই যখন বালিঘাট থেকে বালি বোঝাই ট্রাক্টর বাঁধের ওপর উঠছিল, সেই সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলায় ট্রাক্টরের ইঞ্জিন উল্টে যায়। তাতেই দুজন চাপা পড়ে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাদের। খবর জানাজানি হতেই স্থানীয় গ্রামবাসীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। এদের মধ্যে নিমাই বাগদি ট্রাক্টরের চালক বলে গ্রামবাসীরা দাবি করেছেন। ঘটনার পর পুলিশ ট্রাক্টরটিকে আটক করেছে।

Like Us On Facebook